বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ‘নিষিদ্ধের’ আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে

সিলেট মিরর ডেস্ক


জানুয়ারি ২১, ২০২৬
০৪:৩১ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ২১, ২০২৬
০৪:৩১ অপরাহ্ন



বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ‘নিষিদ্ধের’ আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ চেয়ে করা একটি আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয় এবং জনস্বার্থ মামলা হিসেবেও তা গ্রহণযোগ্য নয়।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত দিল্লি হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির শুরুতেই আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আবেদনটি মূলত পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, আদালতের নয়। ভারতের আদালত অন্য কোনো দেশের বিষয়ে নীতিগত নির্দেশ দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন বেঞ্চ।

বিচারপতিরা বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো নির্দেশ জারি করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে দেশের সীমানার বাইরে সংঘটিত কোনো বিষয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও আদালতের নেই।

আদালত আরও উল্লেখ করে, আবেদনকারী আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে নির্দেশ চেয়েছেন। অথচ এসব সংস্থার ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো আইনগত কর্তৃত্ব নেই।

শুনানিকালে আদালত আবেদনকারীকে সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের আবেদন জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং প্রয়োজনে বড় অঙ্কের জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে বলে উল্লেখ করেন বিচারপতিরা।

বিসিসিআইয়ের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান, মামলায় বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে পক্ষ করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে পড়ে।

আদালত আবেদনকারীকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে যে বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট জারি করা যায় না এবং ভারত সরকার অন্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক বা ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা আদালতের নেই।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, কল্পনা বা ব্যক্তিগত ধারণার ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা যায় না। এর পেছনে সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি থাকতে হয়। পাকিস্তানের একটি রায়ের উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টাও আদালত নাকচ করে দেয়।

শেষ পর্যন্ত আদালতের আপত্তির মুখে আবেদনকারী মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে মামলাটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করেন। আদেশে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য আবেদন না করে আবেদনকারীর আরও গঠনমূলক কাজে যুক্ত হওয়া উচিত।

আরসি-০৮