সিলেটের ইতিহাসে প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

সিলেট মিরর ডেস্ক


জুলাই ২৪, ২০২৬
১০:৪৬ অপরাহ্ন


আপডেট : জুলাই ২৪, ২০২৬
১০:৪৬ অপরাহ্ন



সিলেটের ইতিহাসে প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত


সিলেটের মাটিতে প্রথমবারের মতো সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন ইভেন্ট। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক ম্যারাথন রানার অংশ নেন।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) ‘জুলাই ম্যারাথন ২০২৬’ শিরোনামে এই পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথনের আয়োজন করে সিলেট রানার্স ক্লাব। এর মধ্যে দিয়ে নতুন ইতিহাসের সূচনা হলো। এর আগে সিলেটে হাফ ম্যারাথন ও বিভিন্ন ধরনের রানিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হলেও সিলেটের ইতিহাসে এটিই প্রথম প্রথম পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন ইভেন্ট।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক ম্যারাথন রানার এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন এবং ইতিহাসের এই মাইলফলকের সাক্ষী হন।

ভোর থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে রানাররা সিলেট নগরের কিনব্রিজ থেকে যাত্রা শুরু করেন। ম্যারাথনের রুট ছিল কিনব্রিজ, বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, এয়ারপোর্ট রোড হয়ে সাদাপাথর রোড ব্যবহার করে পরে লাক্কাতুরা স্টেডিয়ামের সামনে রেসটি শেষ হয়।

ইভেন্টটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে পুরো রুটজুড়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিলেট সাইক্লিং ক্লাব, সিলেট স্কেটিং ক্লাব এবং সিলেট বাইকার্স ক্লাব এর সদস্যরা। অংশগ্রহণকারী রানারদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে সিলেট হেলথ সেন্টার এবং সার্বিক স্বেচ্ছাসেবী সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল সেভ সিলেট এর ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও সিলেট ওয়ান্ডার ওমেন।

আয়োজকরা জানান, সিলেটে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত দৌড়চর্চার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের রানিং কমিউনিটি তৈরির লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ। সিলেট রানার্স ক্লাব নিয়মিত রানিং ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং সেশন এবং বিভিন্ন দূরত্বের রানিং ইভেন্টের আয়োজন করে থাকে।

সংগঠনটি ইতোমধ্যে আগামী ২০ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক মানের ‘সিলেট ম্যারাথন’ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ওই আয়োজনে দেশ-বিদেশের তিন সহস্রাধিক রানারের অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও আগ্রহীরা সিলেট রানার্স ক্লাবের সদস্য হয়ে নিয়মিত রানিং ওয়ার্কশপ, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সিলেট রানার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ড. আয়ান মুমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি সুস্থ, সচেতন ও সক্রিয় সিলেট গড়ে তোলা। রানিং শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ। আমরা চাই রানিংয়ের মাধ্যমে সিলেটকে দেশ-বিদেশে আরও শক্তিশালী একটি ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরতে। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে আরও বৃহৎ পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের আয়োজনের মাধ্যমে সিলেটকে বৈশ্বিক রানিং মানচিত্রে স্থান করে দিতে কাজ করে যাব। সকলের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে রানিংকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।’

ম্যারাথনে অংশ নেওয়া ক্রীড়া প্রেমিরা বলছেন, ‘সিলেটের ইতিহাসের প্রথম এই ম্যারাথন ইভেন্ট ভবিষ্যতে অঞ্চলের ক্রীড়া, স্বাস্থ্যসচেতনতা, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’


এএফ/০৪