নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ২৩, ২০২৬
০২:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট : জুলাই ২৩, ২০২৬
০২:৫৭ অপরাহ্ন
সিলেটে শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আদালত প্রাঙ্গণে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আদালত চত্বরে হামলার শিকার হলেন জাকির। এর আগে গত ২৩ জুন আদালতে হাজির করার সময়ও তাকে মারধর করেছিলেন ফাহিমার স্বজন ও স্থানীয়রা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত ফাহিমার স্বজন ও গ্রামের বাসিন্দারা। আদালত ভবনের দিকে নেওয়ার সময় তারা জাকিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেন।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্যেই আসামিকে আদালতে তোলা হয়েছে। এসময় কিছু বিক্ষুব্ধ মানুষ তাকে হেনস্তার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা আসামিকে হেলমেট পরিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আদালতে তুলেছে।
গত ১১ মে ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। তদন্ত শেষে ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ গোপনে সরিয়ে ফেলতে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকেও আসামি করা হয়েছে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা এবং সম্পর্কে শিশুটির চাচা।
গত ৬ মে ফাহিমা নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মে ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশ ও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময় তিনি দাবি করেন, তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ওই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
এএফ/০১