তারেক রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের : সার্জিও গর

সিলেট মিরর ডেস্ক


আগস্ট ০১, ২০২৬
০২:৩৬ অপরাহ্ন


আপডেট : আগস্ট ০১, ২০২৬
০২:৩৬ অপরাহ্ন



তারেক রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের : সার্জিও গর


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত সার্জিও গর। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ নতুন মার্কিন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেছেন।

এই বার্তাটি তিনি তার দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন। 

আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সার্জিও গর। 

বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে সার্জিও গর উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর মার্কিন সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

এই আস্থারই নিদর্শনস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের বিদ্যমান ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে। 

গোর আরো জানান, এই পদক্ষেপটি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি জোরালো বার্তা পৌঁছাবে যে বাংলাদেশ এখন নতুন বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় আগের দিন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিশেষ দূত বলেন, লাখ লাখ আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা প্রদান ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অবদান প্রশংসনীয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে যে সহায়তা পাওয়া যায়, তার অর্ধেকেরও বেশি আসে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এই অব্যাহত সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন বিশেষ মার্কিন দূত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে খাদ্য ও ওষুধ মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গম ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের গুদামজাতকরণ এবং সংরক্ষণাগার নির্মাণে মার্কিন বিনিয়োগের অনুরোধ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি মজবুত ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের তীব্র আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় আইটি খাতে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘প্যাক্স সিলিকা’-র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি.  ক্রিস্টেনসেনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 


এএফ/০২