জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশজুড়ে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা

সিলেট মিরর ডেস্ক


ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন


আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
১০:৩৯ পূর্বাহ্ন



জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশজুড়ে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা

-ফাইল ছবি


সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটে বিশৃঙ্খলা ও কারচুপি ঠেকাতে বিভিন্ন বাহিনীর সাড়ে ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন আছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় টহল শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এবার প্রথম কোনো জাতীয় নির্বাচনে এতসংখ্যক ফোর্স দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে থাকছে সিসি ক্যামেরা। 

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং বিপজ্জনক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার অভিযান কয়েকদিন ধরে জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে এবং নগরীর মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র। 

নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স, বাইরে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য পৃথক ফোর্স। কোনো কেন্দ্রে অনাকাক্ষিত ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব দ্রুত সেখানে পৌঁছাবে। এ জন্য আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হবে। ফলাফলের স্বাক্ষরিত কপি এজেন্টদের সরবরাহ করা হবে।  

আগে নির্বাচনে সেনাবাহিনী কেবল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। এবার জাতীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় তিন বাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মতো ভোটকেন্দ্রের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকছে। 

পুলিশের হিসাবে, তপশিল ঘোষণার পর ৩১৭টি নির্বাচনী সহিংসতায় পাঁচজন নিহত এবং ৬১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৭। ভোটের দিন ও তার পরবর্তী কয়েক দিনও সারাদেশে থাকবে কড়া প্রহরা। 

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মাঠে রয়েছেন সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজারের মতো সদস্য। পুলিশ সদস্য এক লাখ ৮৭ হাজার। এ ছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য থাকছে পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন। তাদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবে পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আনসার বাহিনীর যারা মোতায়েন থাকবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য সংখ্যা ১১ হাজার ৯১০ জন। 

রাজধানীসহ সারাদেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মাঠে নেমেছেন। নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তিন হাজার ৫৮৫, এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।  

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র বলছে, নির্বাচনী দায়িত্বে ভোটকেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে এক লাখ ৫৮ হাজার পুলিশ। বাকি ২৯ হাজার সদস্য ‘সাপোর্ট ডিউটি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 

সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডি ওর্ন (পোশাকের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়) ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৫ হাজার ৫০০ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিমকার্ড যুক্ত থাকবে। ১০ হাজার অফলাইনে। এ ছাড়া ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড থাকবে।  

শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় থাকবে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটেগরিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে নির্দিষ্টসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রবেশপথ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চলছে। 

ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।

বুধবার বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা জানান। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো জঙ্গি হামলার শঙ্কা দেখছে না র‌্যাব। তবুও সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেকোনো নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। 

বুধবার রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিজিবির একাধিক নির্বাচনী বেজ ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় ক্যাম্পে দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এমন নির্দেশনা দেন তিনি। 


এএফ/০১