কেন্দ্রে ভোটার আনাই বড় চ্যালেঞ্জে সিলেট বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক


ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
০২:৩০ অপরাহ্ন


আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
১০:৪০ পূর্বাহ্ন



কেন্দ্রে ভোটার আনাই বড় চ্যালেঞ্জে সিলেট বিএনপি

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শেষ সময়ের প্রস্তুতি আর হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। তবে এবারের নির্বাচনে সিলেটে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বিশেষ করে বিএনপির জন্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিন্ন বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের নির্বাচন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ভোটে অংশ নিচ্ছে না। দলটির পক্ষ থেকে ভোটে অংশ না নিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। এতে অনেক ভোটার কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী বা শঙ্কিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নীরব ও নিরপেক্ষ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সিলেট জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৩, নারী ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৬১০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন। আসনভিত্তিক হিসাবে সিলেট-১ এ ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৩, সিলেট-২ এ ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০, সিলেট-৩ এ ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৬, সিলেট-৪ এ ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩, সিলেট-৫ এ ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ এবং সিলেট-৬ আসনে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন ভোটার রয়েছেন।

জানা গেছে, সিলেটের ছয়টি আসনে হিন্দু সম্প্রদায় ও চা শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ ভোটার রয়েছেন। এই দুই জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ কতটা হবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সিলেট-১ আসনেই হিন্দু ভোটার রয়েছেন প্রায় এক লাখ। অন্যদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির তথ্য অনুযায়ী, একই আসনে ২০ হাজারের বেশি চা শ্রমিক ভোটার রয়েছেন। সিলেটের ছয়টি আসনের চারটিতে চা শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে।

চা শ্রমিক অধিকার আন্দোলন সিলেটের সভাপতি রিতেশ মোদী বলেন, অতীতে চা শ্রমিকদের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট দিতেন। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের আগ্রহ কিছুটা কমে গেছে। শ্রমিকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সংগঠিত কর্মীবাহিনী থাকায় তারা তাদের সমর্থকদের কেন্দ্রে আনতে সক্ষম হতে পারে। তুলনামূলকভাবে এ ক্ষেত্রে বিএনপিকে বেশি বেগ পেতে হতে পারে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বিএনপির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যেও প্রচারে শিথিলতা দেখা গেছে বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।

মহানগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতের একতরফা নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কারণে অনেক ভোটারের মধ্যে আগ্রহ কমে গেছে। বিএনপির অনেক সমর্থকও কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।

তবে বিএনপি নেতারা আশাবাদী। সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন পর মানুষ উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে আসবেন বলে তারা আশা করছেন।

এদিকে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। তাই ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতির হারই শেষ পর্যন্ত সিলেটের নির্বাচনী ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আরসি-০২