সিলেট মিরর ডেস্ক
জানুয়ারি ২০, ২০২৬
০১:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট : জানুয়ারি ২০, ২০২৬
০১:২২ অপরাহ্ন
বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর নববধূকে চিনতে না পারার অভিযোগ তুলেছেন বর। বিয়ের আগে যে পাত্রী দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে থাকা নারী সেই ব্যক্তি নন— এমন অভিযোগ ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় মামলা ও আইনি জটিলতায়। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলার পর আদালত বরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় ঘটে যাওয়া ‘কনে বদল’ অভিযোগের ঘটনায় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত বর রায়হান কবিরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ১ আগস্ট রাণীশংকৈল উপজেলার ভাণ্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের সঙ্গে একই জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের বিয়ে হয়। বিয়ের রাতেই বর ও তার পরিবার অভিযোগ তোলে, বাসরঘরে থাকা কনে সেই নারী নন, যাকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিল।
ঘটনার পর দুই পক্ষ একাধিকবার আলোচনায় বসেও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। পরে গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন। এর জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে পাল্টা মামলা দায়ের করেন।
উভয় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বরের মামা বাদল জানান, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হানের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে রাণীশংকৈলের শিবদীঘি এলাকার একটি চায়ের দোকানে একটি মেয়েকে দেখানো হয়। মেয়েটিকে পছন্দ হওয়ায় বিয়েতে সম্মতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মেয়েপক্ষ নতুন করে মেয়ে না দেখিয়েই দ্রুত বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করতে চাপ দেয়।
তিনি বলেন, দুলাভাই মানিক হাসান মালয়েশিয়াপ্রবাসী হওয়ায় সময় স্বল্পতায় ১ আগস্ট রাতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। অতিরিক্ত সাজসজ্জার কারণে রাতে বিষয়টি বোঝা যায়নি। তবে বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর রায়হান বুঝতে পারেন, যাকে আগে দেখানো হয়েছিল, তিনি ভিন্ন ব্যক্তি। পরদিন ২ আগস্ট কনেকে তার বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক কনে বদলের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিন মেয়ের মধ্যে মেজো মেয়ে জেমিন আক্তার রাণীশংকৈল মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছেলেপক্ষ তাদের বাড়িতে এসেই মেয়েকে দেখে বিয়ে করেছে এবং বরযাত্রীসহ প্রায় ৭০ জনের সামনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষায়, কনে বদলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
জিয়ারুল হকের অভিযোগ, বিয়ের পরদিন বরপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সময়মতো টাকা দিতে না পারায় তাকে হেয় করতেই কনে বদলের গল্প তৈরি করা হয়েছে।
ঘটক মোতালেবও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাত্রীর বাবার বাড়িতেই মেয়ে দেখানো হয়েছিল এবং সব নিয়ম মেনেই বিয়ে হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, ছেলের অভিযোগ হলো প্রতারণার মাধ্যমে কনে বদল করা হয়েছে। বিষয়টি এখন বিচারাধীন এবং আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরসি-০৭