সিলেট মিরর ডেস্ক
জানুয়ারি ২০, ২০২৬
১২:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট : জানুয়ারি ২০, ২০২৬
১২:০৯ অপরাহ্ন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন টিকে থাকা নয়; সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত পলিসি সামিট–২০২৬ অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি। কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।'
তিনি বলেন, 'গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণদের নেতৃত্বে জনগণ আবার নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে দাঁড়িয়ে গেছে।'
জামায়াত আমির বলেন, 'একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে দেশ এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এই পথে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।'
অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থানের মান কমে গেছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। অধিকাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক ও অনিরাপদ কাজে নিয়োজিত, শিক্ষিত তরুণেরা শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে রূপান্তর ঘটাতে পারছেন না। নারীরাও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।'
তার ভাষায়, 'শুধু প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সক্ষমতা তৈরি করাই প্রকৃত অর্থনৈতিক সাফল্যের মাপকাঠি হওয়া উচিত।'
বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ। দেশের ভেতরে শ্রমজীবী মানুষ এবং বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা অর্থনীতির চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কেবল অর্থনৈতিক অবদান নয়, বরং দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার বড় উৎস।'
নারীদের ভূমিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, 'নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতা।'
সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনের নজির ছিল।'
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে। ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতের লক্ষ্য। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।'
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা, প্যানেলিস্ট ও বিশেষজ্ঞদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন জামায়াত আমির।
আরসি-০৫