বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


জুন ০৪, ২০২৬
০৮:১৫ অপরাহ্ন


আপডেট : জুন ০৪, ২০২৬
০৮:১৫ অপরাহ্ন



বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের দাবি


বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আসছে জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কয়লা, তেল ও এলএনজি নির্ভর বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি : প্রাক-বাজেট প্রেস কনফারেন্স’ এসব দাবি তুলে ধরা হয়। ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্স (আইডিয়া), ফেড সিলেট, ক্লিন ও  বিডব্লিউজিইডি যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, আইডিয়ার পরিচালক নাজিম আহমদ, ফেড কমিটির সদস্য ও সোলার প্যানেল ইস্টলার মোহাম্মদ ফুরুক, আইডিয়ার কর্মকর্তা তামান্না আহমদ, ক্যাম্পেইন অ্যাসোসিয়েট নোমান খান। 

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশকর্মী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি ও কয়লার দামের অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বাংলাদেশের মতো আমদানি নির্ভর দেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও ভর্তুকি বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।’

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত এখনো গ্যাস, তেল ও কয়লাভিত্তিক জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামায় দেশের অর্থনীতি আরো সংবেদনশীল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বোঝা তৈরি করছে।  এই বাস্তবতায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান এখনো সীমিত। অথচ রুফটপ সোলার, সোলার ইরিগেশন, অ্যাগ্রিভোলটাইক্স, ফ্লোটোভোলটাইক্স, নেট মিটারিং ও কমিউনিটি-ওনড এনার্জি সিস্টেমের মতো উদ্যোগ জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর কর ও শুল্ক কমানো এবং সহজ শর্তে অর্থায়ন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া রুফটপ সোলার ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে অ্যাগ্রিভোলটাইক্স ও সোলার ইরিগেশনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়নের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য ‘প্রায়োরিটি ডিসপ্যাচ’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।



এএফ/০২