নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তায় এনসিপি, ভোট বর্জনের ইঙ্গিতও

সিলেট মিরর ডেস্ক


জানুয়ারি ২০, ২০২৬
১০:৫৬ পূর্বাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ২০, ২০২৬
১০:৫৬ পূর্বাহ্ন



নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তায় এনসিপি, ভোট বর্জনের ইঙ্গিতও

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সব প্রস্তুতি থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটের মাঠে থাকা নিয়ে সংশয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। পরিস্থিতি বদল না হলে ভোট বর্জন ও আন্দোলনের পথে যাওয়ার আভাস দিচ্ছে দলটি।

আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থাহীনতা এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ না থাকার অভিযোগ তুলেছেন দলটির নেতারা।

গত রবিবার সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য এনসিপি প্রস্তুত রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে এনসিপির নেতারা বিএনপির প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো গুরুতর বিষয়ে ইসি বিএনপির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে।

সোমবার বিকেলে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যান। দলে ছিলেন মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। বৈঠকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের যে নিরপেক্ষ আচরণ প্রয়োজন, তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, ‘নির্বাচন যদি এভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তার দায় শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরই আসবে।’

এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা হারিয়েছে। চট্টগ্রামে এক বিএনপি প্রার্থীর প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এ ক্ষেত্রে আইনের ব্যাখ্যা নিজেদের মতো করে পরিবর্তন করেছে কমিশন, যা তাদের এখতিয়ারের বাইরে বলেও মনে করে দলটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক যুগ্ম সদস্যসচিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ইসি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে দলটি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভোট বর্জনের ঘোষণাও আসতে পারে।

এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের কো-লিড ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় প্রতারণা করেছে নির্বাচন কমিশন, যারা একপেশে আচরণ করছে।

আচরণবিধি প্রয়োগ নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে এনসিপি। আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁদের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শোকজ জারি করা হলেও একই ইস্যুতে অন্য দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

দলীয় সূত্র জানায়, ইসির ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে এনসিপি। তবে বিএনপির বিতর্কিত প্রার্থীরা নির্বাচনে বহাল থাকলে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে নামার চিন্তাও রয়েছে।

এ বিষয়ে মনিরা শারমিন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করা হবে। প্রয়োজন হলে বিকল্প পথও ভাবা হবে।

পক্ষপাতের সুযোগ নেই: প্রধান উপদেষ্টা

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। এতে কোনো পক্ষপাতের সুযোগ নেই।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন এবং তা সুষ্ঠু করতেই সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে জানালে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

নির্বাচনী ক্রাউড ফান্ডিং শুরু

এদিকে, নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ কার্যক্রম শুরু করেছে এনসিপি। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি জানান, দলের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ প্রার্থী এই ব্যবস্থার আওতায় নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনা করবেন। দাতারা চাইলে দলকে অথবা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সরাসরি অনুদান দিতে পারবেন।

আরসি-০২