শাহজালাল মাজারের দানের টাকা গণনা চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক


জুলাই ১১, ২০২৬
০৩:০৭ অপরাহ্ন


আপডেট : জুলাই ১১, ২০২৬
০৩:০৭ অপরাহ্ন



শাহজালাল মাজারের দানের টাকা গণনা চলছে


প্রায় সোয়া ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে টাকা গণনা শুরু হয়েছে। 

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন মাদরাসার অন্তত ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থীরা।

এই কার্যক্রম শুরু করতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারে আসেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, একই কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছসহ মাজার সংশ্লিষ্টরা। 

পরে তারা মাজারের ঐতিহাসিক দানের তিনটি ডেগ সিলগালা অবস্থা থেকে খোলেন। ডেগ থেকে টাকা বস্তাবন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে টাকা গণনার স্থানে। সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টাকা গণনা শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। 

গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারই আলোকে শনিবার প্রকাশ্যে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন সিলেটের সাবেক ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের নেতেৃত্বে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা গণনা করা হয়। সে সময় গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে টাকাগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।

প্রসঙ্গত, মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।

এ উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।

পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।


এএফ/০২