‘ভয় আগেও ছিল, নতুন বন্দোবস্তে যখন এরকম হয়, তখন ভয় বেড়ে যায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
০৮:৪৫ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
০৯:১৩ অপরাহ্ন



‘ভয় আগেও ছিল, নতুন বন্দোবস্তে যখন এরকম হয়, তখন ভয় বেড়ে যায়’
গণমাধ্যম সম্মিলনে আহমেদ নূর


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূর বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে। আমরা ভয়ে আছি। অতীতে যে ছিলাম না-এমন নয়। কিন্তু যখন আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি, নতুন বন্দোবস্তের কথা বলছি, তখন যখন এইরকম হয়-তখন ভয়টা আরো বেড়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীনভাবে লিখতে চাই, কাজ করতে চাই’

আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে সম্পাদক পরিষদ এবং নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬-এ রাখা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


গণমাধ্যম সম্মিলনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশক, সম্পাদক, সাংবাদিকরা। এতে সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।  

অনুষ্ঠানে নিজেদের কাজের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে আহমেদ নূর বলেন, ‘আমাদের একটা ভয় কাজ করে। আমরা একটা ভয়ের মধ্যে আছি। অতীতেও ছিলাম। ছিলাম না এমন নয়। কিন্তু যখন আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি, নতুন বন্দোবস্তের কথা বলছি। তখন যখন এইরকম হয় তখন ভয়টা আরো বেড়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীনভাবে লিখতে চাই, কাজ করতে চাই।’


এসময় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়ার ঘটনা তুলে বলেন, ‘আর এরকম সময়ে দুটো কাগজই- প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার যে হামলা হলো সেটাকে আমরা কিভাবে দেখব? অতীতে কি এরকম হয়েছে? বন্ধ হয়েছে, দখল হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হলো! সাংবাদিকদের মারার চেষ্টা করা হলো।’

খ্যাতিমান সাংবাদিক নুরুল কবিরকে হেনস্তার প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘সম্পাদক পরিষদের সভাপতি তাঁর নিজের সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হলেন। গত ১৫ বছরের সবসময় তো তিনি সত্য বলে গেছেন। কারো দালালি করেননি। তাহলে নতুন বন্দোবস্তের জায়গায় তিনি কেন হেনস্তার শিকার হলেন।’ 

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আজকে গণমাধ্যম কমিশন হলো। সংস্কার রিপোর্ট দেওয়া হলো। কোথাও কি সংস্কার হয়েছে। কেন হয়নি? এ প্রশ্নগুলো রাখতে হবে।’ এসময় তিনি বলেন, ‘আরেকটি প্রশ্ন রাখতে চাই, ডেইলি স্টার, প্রথম আলো আক্রান্ত হলো কেন? যদি একটু অন্যভাবে চিন্তা করি, একই দিনে আমি যদি ভুল না করি ছায়ানটেও হামলা হয়েছে, উদীচিতেও হামলা হয়েছে। আপনি জায়গাটাতে যেতে হবে তো। ক্ষোভটা কোথায়? সেই জায়গাগুলোর অনুসন্ধান করতে হবে।’

সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন ড. ইউনুসের মতো ব্যক্তি। তিনি যে তিনটি স্বাক্ষাৎকার দিয়েছেন, আমি পড়েছি। মতিউর রহমান, নুরুল কবির, মাহফুজ আনাম নিয়েছেন। তারা অসহায় হয়ে সাহায্য চেয়েছেন। তাঁর (ড. ইউনুসের) প্রেস সচিব তো বলেছেন, ‘অনেক সহকর্মী আমাকে ফোন দিয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু ততক্ষণে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’ এটা আমাকে বিশ^াস করতে হবে? এজেন্সি রিপোর্ট ছিল না? এগুলো আমাদের ভেবে দেখতে হবে।’

ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্য বজায় রাখতে হবে। আজকে যদি এই প্লাটফর্ম থেকে যদি কোনো ফোরাম হয়, আমরা থাকব। সিলেট থেকে আমরা থাকব।’

এসময় তিনি সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবকে সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সম্পাদক পরিষদ যদিও ঢাকা ভিত্তিক। ঢাকার পর চট্টগ্রাম তারপরে সিলেট। সম্পাদক পরিষদের কেউ নেই। এটাকে বোধ হয় একটু সম্প্রসারণ করা দরকার। বিভাগীয় শহরগুলোতে নেওয়া দরকার। কারণ এখানে মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম থাকার পর ডেইলি স্টার, প্রথম আলোয় আগুন দেওয়া হয়। তাহলে আমাদের রক্ষা করবে কে? সম্পাদক পরিষদকেই রক্ষা করতে হবে। নোয়াবকে করতে হবে। এগুলো ভেবে দেখার অনুরোধ রইল।’

 

এএফ/০২