সিলেট মিরর ডেস্ক
মার্চ ০৬, ২০২৩
০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট : মার্চ ০৭, ২০২৩
০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর পুরোপুরি নিভেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে দুই হাজারের বেশি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে গৃহহারা হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে অন্তত ১২ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক। তবে এই অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রোববার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালীর ১১ নম্বর ক্যাম্পের বি ব্লকের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ৯, ১০, ১২ নম্বর ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে।
৯ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, আমাদের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমরা সাধারণ মানুষ। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে রয়েছি।
১১ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, বিকেলে হঠাৎ করে আগুন কীভাবে লাগল জানা নেই। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি চারদিকে আগুন। তাড়াতাড়ি করে ঘরের মানুষজন ও মালামাল নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।
উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দুই হাজারের বেশি ঘর পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হলেও তা নিশ্চিত করে বলতে সময় লাগবে। এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক অতীশ চাকমা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। এই কর্মকর্তা জানান, আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষত-ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য নির্ধারণে কাজ চলছে। সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে সময় লাগবে।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এবিপিএন) এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, আগুনে দুই হাজারের বেশি ঘর পুড়ে যায়। এতে ১২ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্যাম্পের ঘরগুলো পাশাপাশি হওয়ায় আগুন ১২, ১১, ১০ ও ৯ নম্বর ক্যাম্পে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সন্দেহজনক এক যুবকে আটক করেছে এপিবিএন ও পুলিশ। আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা নয়ন বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় দুই হাজারের মতো ঘর পুড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের কারণ এখনও বলা যাচ্ছে না। হতাহতের কোনো তথ্যও আপাতত নেই।
২০১৭ সালের আগস্ট থেকে পরবর্তী কয়েক মাস গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। মানবিক কারণে বিভিন্ন সময় আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিককে জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় শিবির করে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে আগেও বেশ কয়েক বার আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
এসই/০১