সিলেটে বই মেলার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক


মে ১০, ২০২৬
০৯:১২ অপরাহ্ন


আপডেট : মে ১০, ২০২৬
০৯:১৪ অপরাহ্ন



সিলেটে বই মেলার উদ্বোধন


সিলেটে বইমেলার উদ্বোধন করে বক্তারা বলেছেন, ‘বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল ও নির্দোষ উদ্যোগকে বারবার রুখে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তা শেষপর্যন্ত সফল হয়নি।’ এসময় বক্তারা বলেন, ‘বই বিমুখ প্রজন্মকে বইমুখি করতে বইমেলার বিকল্প নেই।’ এসময় তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এমন অদৃশ্য শক্তি কারা যারা এমন সুন্দর একটি অনুষ্ঠানকে, সাহিত্য সংস্কৃতি প্রেমিদের এমন একটা প্রাণের উৎসবকে বন্ধ করে দিলো।’

মব আতঙ্কে এক বছরে দুই বার প্রশাসন কর্তৃক স্থগিত হওয়ার পর রবিবার (১০ মে) থেকে সিলেটে শুরু হয়েছে প্রকাশক পরিষদ আয়োজিত বইমেলা। বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মঞ্চে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘বই বিমুখ প্রজন্মকে বইমুখি করতে বইমেলার বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার এক্ষেত্রে খুব আন্তরিক। সিলেট অঞ্চলের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি এক গৌরবময় ঐতিহ্য বহন করে আসছে।’ এসময় তিনি বইমেলার সাফল্য কামনা করেন। 

প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সভাপতি নাজমুল হক নাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলাম সিলেট মহানগরের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত নাট্যপরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো ও প্রবাসী তরুণ শিল্পানুরাগী  সৈয়দ জবেদ আহমেদ।

মবের ভয় মেলা বন্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলাম সিলেট মহানগরের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে আমি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা (বই মেলা) কোনো রাজনৈতিক প্লাটফর্ম নয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি সকলের জন্য। সাহিত্য, সংস্কৃতি যদি স্বাধীনভাবে চর্চার পরিবেশ না থাকে তবে সমাজ তার নির্দিষ্ট পথে চলতে পারে না। এজন্য আমরা মনে করি এটাকে বিভিন্ন দোহাই দিয়ে, বিশেষ এক দুইজনের কারণে এধরণের একটা সুন্দর আয়োজন বন্ধ হয়ে যাবে, এটা আমরা ভালো দৃষ্টিতে নিচ্ছি না।’ একটি জাতীয় দৈনিকের সুধী সমাবেশে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানেও দুই একজন বক্তা এ নিয়ে বলেছেন। আমিও বলেছি। ফ্যাসিবাদীর সময়ে আমরা দেখেছি বিভিন্ন মানুষের কথা বলার অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখনো যদি এটা চলে তাহলে কিভাবে হবে। এমন অদৃশ্য শক্তি কারা যারা এমন সুন্দর একটি অনুষ্ঠানকে, সাহিত্য সংস্কৃতি প্রেমিদের এমন একটা প্রাণের উৎসবকে বন্ধ করে দিলো। আমি উনাকে বললাম। তিনি বলেছিলেন বিষয়টি দেখবেন। আমার মনে হয় বিভিন্ন জন এ নিয়ে কথা বলায়, প্রতিবাদ করায় প্রশাসন আয়োজকদের ডেকে নিয়ে মেলা আহ্বান করার জন্য বলেছেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত নাট্যপরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো বলেন, ‘বইমেলার মত সৃজনশীল ও নির্দোষ আয়োজনকে বার বার অপশক্তি রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্ত তারা সফল হয়নি।’ তিনি বইমেলায় সবাইকে ঐক্য ধরে রাখার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ^স্ত করেছেন আগামীতে বইমেলা, সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল মেলা, বৈশাখী মেলা এগুলো নিয়ে যাতে আগামীতে কোনো দলীয় পরিচয় দিয়ে কোনো ধরণের বাধাগ্রস্ত করা না হয়। সংগত কারণ থাকলে সেটা সামনে আনলে কর্তৃপক্ষ আমরা বিষয়টি দেখব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী তরুণ শিল্পানুরাগী  সৈয়দ জবেদ আহমেদ বলেন, ‘নানা বাঁধার পর সিলেট বইমেলা আজ থেকে শুরু হলো। এটি অপশক্তির বিরুদ্ধে সৃষ্টিশীলতার বিজয়। আমি মেলাকে সার্বজনীন অবস্থানে দেখতে চাই।’ 

এর আগে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকাশক পরিষদের সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও নাগরি প্রকাশনের প্রকাশক  সুফি সুফিয়ান।

মেলায় ঢাকা ও সিলেটের ১৮টি প্রকাশনী মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। মেলা প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিনই মেলায় আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, নাটকসহ নানা সাংষ্কৃতিক পরিবেশনা। 

এর আগে শুরুতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের প্রকাশক পরিষদের সদস্য ও চৈতন্য প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী রাজীব চৌধুরী ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।




এএফ/০২