দেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুলকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


মে ১০, ২০২৬
০৯:২১ অপরাহ্ন


আপডেট : মে ১০, ২০২৬
০৯:২৪ অপরাহ্ন



দেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুলকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ঘোষণার দাবি
রাতারগুল গ্রামে গ্রামীণ নাগরিক সভায় ধরা নেতৃবৃন্দ


রাত গভীর হলেই শুরু হয় বেপরোয়া বালু উত্তোলন। দেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুলের লাগোয়া চেঙ্গেরখাল নদী (সারি-গোয়াইন) থেকে বালুখেকোরা অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে করে ভাঙনের মুখে পড়েছে দেশের একমাত্র জলাবনটি। প্রাণিবৈচিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৫০৪ একরের এই বন রক্ষায় অনতিবিলম্বে বাস্তসঙ্কটাপন্ন বা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

রবিবার (১০ মে) রাতারগুলের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে বিকেলে রাতারগুল গ্রামের মাঝেরঘাটে আয়োজিত গ্রামীণ নাগরিক সভায় এই দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) নেতৃবৃন্দ। 

গ্রামীণ নাগরিক সভায় সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহাজামান চৌধুরী। মূল বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’র (ধরা) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল করিম কিম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী, ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফখরুদ্দিন চৌধুরী, পরিবেশকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু, রাতারগুল গ্রামের আমির আলী, আরব আলী, সোনা মিয়া, ফখরুল ইসলাম, মিনহাজ উদ্দিন, দুলু মিয়া, ফজলু মিয়া, শাহাবুদ্দিন ও রাতারগুল সমাজ কল্যান পরিষদের সভাপতি আল-আমিন।

মূল বক্তব্যে আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘একটি বালুখেকো চক্র প্রায় রাতেই রাতারগুল জলাবনের পাশে নদী থেকে মেশিন লাগিয়ে অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলন করে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার বলা হলেও স্থানীয় প্রশাসন এ পর্যন্ত কার্যকর কেনো ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। ফলে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত বালি উত্তোলন চলছেই। যার প্রভাবে বনের পাড়ে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।’ এই ভাঙ্গনে বন সংকুচিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মিঠাপানির বন বলতে রাতারগুলকেই বোঝায়। এই বনের প্রতিবেশগত গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বনরক্ষার জন্য বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ ও রাতারগুল জলারবনকে অবিলম্বে বাস্তু সংকটাপন্ন বা  প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করতে হবে।’

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, শাহ আরেফিনসহ কিছু এলাকাকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট নেই। রাতারগুলকে ইসিএ ভুক্ত না করা হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোস্তফা শাহাজামান চৌধুরী বলেন, ‘অনুমোদনহীন বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের যেখানে সক্রিয় থাকার কথা সেখানে রাতারগুল জলাবনের মত প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ক্ষতি করে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিরবতা হতাশাজনক।’



এএফ/০৪