বিএনপির পর এবার জামায়াতের গণজমায়াতে শাবিপ্রবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
১০:২৮ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
১০:২৮ অপরাহ্ন



বিএনপির পর এবার জামায়াতের গণজমায়াতে শাবিপ্রবি উপাচার্য

বেড়া ডিঙিয়ে সিলেটে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী আবারও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এবার তিনি ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নেতাদের আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে একটি গণজমায়েতে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ ব্যানারে এ গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির প্যানেল থেকে বিজয়ী ভিপি, জিএস ও এজিএসরা অংশ নেন। একই সঙ্গে সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমানও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেটে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন শাবিপ্রবি উপাচার্য। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শাবিপ্রবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য বেড়া ডিঙিয়ে ওই সমাবেশে যোগ দেন—এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ওই দিন দর্শক সারিতে বসে থাকলেও বৃহস্পতিবারের গণজমায়েতে উপাচার্যকে মঞ্চে বসে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশে গত তিনটি সরকারের সময়ে ভোটগ্রহণ হয়েছে অত্যন্ত জটিল ও অনিয়মিত পরিবেশে। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে ভোট, আগের রাতে ভোট দেওয়া কিংবা ভোটের বাক্স ছুরি দিয়ে খোলার মতো ঘটনা পৃথিবীর আর কোনো দেশে দেখা যায় না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই ‘হাফ ভোট’ বা গণভোটের আয়োজন করেছে।

তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে মানুষের ক্ষমতা ও মতামত সঠিকভাবে প্রকাশ পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না।

উপাচার্য আরও বলেন, সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীতে অধ্যাপক আলী রিয়াজ রয়েছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, ভোট দেওয়ার কারণগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বা একক ক্ষমতার পুনরুত্থান রোধ হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ম-কানুন প্রতিষ্ঠিত হবে।

ড. সরওয়ারউদ্দিন বলেন, সে কারণেই সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের বিভিন্ন সেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে। গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হবে এবং সবাইকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিতে বলা হবে।

তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া, যাতে অতীতের মতো হানাহানি না ঘটে, বিচার বিভাগ কারও নিয়ন্ত্রণে না থাকে এবং সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

সবশেষে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই গণজমায়েত থেকে সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবে এবং এর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

আরসি-০৬