নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
০৫:১২ অপরাহ্ন
আপডেট : জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
০৫:১৫ অপরাহ্ন
সিলেটে নিঃসন্তান দম্পতিদের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে জেলার প্রথম আইভিএফ সেন্টার ‘সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’। টেস্টটিউব বেবিসহ বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ের আধুনিক চিকিৎসা কম খরচে স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই এই কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য।
নগরের সোবহানীঘাট এলাকায় অবস্থিত সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালে এই সেন্টারটি গড়ে তুলেছেন ২১ জন গাইনি বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের নিঃসন্তান দম্পতিদের চিকিৎসা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আইভিএফ সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তারা। সেই ধারাবাহিকতায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এখানে নিঃসন্তান নারীদের নিবন্ধন শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে সেন্টারটির উদ্বোধন করা হয়। এতে আইভিএফ, আইসিএসআই, আইইউআই, এমব্রিও ফ্রিজিংসহ বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ের বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রমের ঘোষণা দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. তারেক আজাদ বলেন, কম খরচে টেস্টটিউব পদ্ধতিতে নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান লাভের সুযোগ করে দিতে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। যেসব দম্পতির স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা নেই, তারা আইভিএফ পদ্ধতিতে ভ্রূণ স্থানান্তরের মাধ্যমে সন্তানের স্বাদ পেতে পারেন। এতে মাতৃত্বের আনন্দ যেমন ফিরবে, তেমনি পরিবারেও স্বস্তি আসবে।
তিনি বলেন, সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে গাইনি রোগ ও শিশুদের জটিল রোগের চিকিৎসায় সাফল্য রয়েছে। কিন্তু নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান না হওয়াকে ঘিরে পরিবারে যে মানসিক চাপ ও অশান্তি তৈরি হয়, তা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীকে নানা ধরনের নিগ্রহের শিকার হতে হয়। এই বাস্তবতা থেকেই সাধারণ গাইনি চিকিৎসার পাশাপাশি ইনফার্টিলিটি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ জন্মেছে। আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে আইভিএফ ও আইইউআই কার্যক্রমে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তায় থাকা গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নমিতা রানী সিনহাসহ অন্যান্য গাইনি বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেক নারীর জরায়ুতে অ্যাডেনোমাইসিস নামের একটি রোগ থাকে, যা সন্তান ধারণে বড় বাধা সৃষ্টি করে। এ রোগের নন সার্জিক্যাল চিকিৎসার জন্য ভারতে একাধিক হাইপো সেন্টার রয়েছে। সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারও সেই আদলে চিকিৎসা সেবা দেবে। ভ্রূণ ট্রান্সফারের মাধ্যমে সফল হলে প্রক্রিয়া শুরুর প্রায় নয় মাস পর টেস্টটিউব শিশুর জন্ম সম্ভব হবে বলে জানান তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, সিলেটে এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইভিএফ ও আইইউআই কার্যক্রম চালু হলো। নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ। ইনশা আল্লাহ, এই কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সফলতা আসবে।
তিনি জানান, এই সেন্টারে আইভিএফ বা টেস্টটিউব বেবি, আইসিএসআই পদ্ধতিতে সরাসরি ডিম্বাণুর ভেতরে শুক্রাণু প্রবেশ করানো, আইইউআই পদ্ধতিতে জরায়ুর ভেতরে শুক্রাণু স্থাপন, ভ্রূণ ও শুক্রাণু হিমায়িত করে রাখা এবং ফ্রোজেন এমব্রিও ট্রান্সফারসহ আধুনিক সব চিকিৎসা সুবিধা থাকবে।
আইভিএফ চিকিৎসায় বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে অধ্যাপক জিয়াউর রহমান বলেন, ৩৫ বছরের নিচে ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের সাফল্যের হার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হার কমে আসে। সাধারণত একটি আইভিএফ চক্রে খরচ পড়বে আনুমানিক সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার মধ্যে।
ডা. হিমাংশু দাস সৌম্যের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. নাতিয়া রাহনুমা, ডা. নুজহাত শারমিন উর্মিসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও অতিথিরা।
আরসি-১০