ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ৮ জন নিহতের খবর

সিলেট মিরর ডেস্ক


মার্চ ২৯, ২০২৬
০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন


আপডেট : মার্চ ২৯, ২০২৬
০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন



ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ৮ জন নিহতের খবর


অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার আট যুবক মারা গেছে বলে পুলিশ খবর পেয়েছে।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (ডিআইও-১) মো. আজিজুর রহমান শনিবার রাতে বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, দিরাই ও জগন্নাথপুরের ৮ জন মারা গেছেন। তবে লোকজন আরো ২ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন। সব বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি ‘

উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও ‘ভুক্তভোগী’ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার চারজন, জগন্নাথপুরের পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে এসেছে।

তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই অনেকে এসব সংবাদ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

দিরাই উপজেলায় যাদের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন, তারা হলেন- কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের নূ্রুজ্জামান সরদার ময়না, সাজিদ, শাহান এবং রাজানগর ইউনিয়নরে ররনারচরের মুজিবুর রহমান।

ময়নার মামা উমেদ আলী শনিবার রাতে বলেন, ‘তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে ময়না ছিল সবার আদরের। তার বাবা ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে তার ছেলেকে ইতালি পাঠিয়েছিলেন। জমি বিক্রি করে, গরু বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়েছেন। এখন টাকাও গেল; ছেলেও চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল। আমরা দালাল চক্রের বিচার চাই ‘

তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহনুর মিয়া বলেন, ‘ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে জমিজমা, হালের গরু, মায়ের গয়না বিক্রি করে তরুণরা দালালের ফাঁদে পড়েছিল। লিবিয়ায় তারা সাগরে ডুবে মারা গেছে। যুবকদের পরিবারে কান্নার রোল চলছে।’

দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং তারা অভিযোগ দিলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার বলেন, ‘আমরা শুনেছি এখানকার কয়েকজনের কথা। ফেইসবুকেও দেখেছি। আমি ওই সব এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাদের (নিহতদের) বাড়িতে যাচ্ছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।

জগন্নাথপুর উপজেলায় যাদের মৃত্যুর খবর এসেছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনরা দাবি করেছেন, তারা হলেন- পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম আহমদ ও মনির হোসেন।

কবিরপুর গ্রামের নাঈম আহমদের ভাই ঝিনুক মিয়া বলছেন, তারা এ ধরনের সংবাদ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই নাঈম আহমদকে ‘গেইম ঘরে’ (লোকজনকে স্থানান্তরের জন্য যেখানে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়) নিয়ে সাগরে নৌকায় তুলেছিল দালালের লোকজন। আমরা ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না কয়েকদিন ধরে। আজ শুনেছি সে সাগরে মারা গেছে। আমরা দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি ‘

জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ইউনিয়নের নাঈম আহমদ ও মনির মিয়া নামের দুই যুবক সাগরে মারা গেছেন। তারা গ্রিসে যেতে দালালকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছিল। এখন পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে।’

এ ছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ফাহিম নামের আরেক যুবকও মারা গেছেন বলে খবর ছড়িয়েছে।



এএফ/০২