নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
০১:০১ অপরাহ্ন
আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
০১:০১ অপরাহ্ন
বন্দরবাজারের ভেতরে ঢুকতেই কোলাহলের সঙ্গে মিশে আসে এক ধরনের অস্বস্তির সুর। ইফতারের বাজারের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু ক্রেতাদের মুখে তৃপ্তির চেয়ে চিন্তার ছাপই বেশি। হাতে থলি নিয়ে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছেন অনেকে, দাম জিজ্ঞেস করছেন, আবার কিছু না কিনেই সরে যাচ্ছেন।
একটি লেবুর ঝুড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দাম শুনে থমকে গেলেন এক ক্রেতা। ছোট আকারের লেবুর হালি ১০০ টাকার নিচে নেই, মাঝারি ও বড় লেবু বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, রোজা শুরুর আগেই বাজারে লেবুর এমন উত্তাপ আগে খুব একটা দেখা যায়নি।
শুধু লেবুই নয়, বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে শসাও। প্রতিকেজি শসা এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। ইফতারি তালিকার গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পণ্যের দাম হঠাৎ এমনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।
সিলেট নগরের বন্দরবাজার, আম্বরখানা, সুবিদবাজার ও মদিনা মার্কেট ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। ইফতার ও সেহরিতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সবজির দামও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মাছ ও মাংসের বাজারেও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।
উপশহর থেকে বাজার করতে আসা মনির হোসেন বলছিলেন, রমজান এলেই লেবুর চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বাড়ে। তবে এবার সেই বাড়তি দাম আগেভাগেই শুরু হয়েছে। “গত সপ্তাহেও লেবু ২০–৩০ টাকায় পেয়েছি। এখন ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের মতে, এর পেছনে রয়েছে সরবরাহ সংকট। শিবগঞ্জের সবজি বিক্রেতা রুমেল মিয়া জানান, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে লেবু কিনতে হচ্ছে। অনেক চাষি রমজানে বেশি দামের আশায় লেবু ধরে রাখছেন। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, আর তার প্রভাব পড়ছে খুচরা দামে।
বাজারের এই ঊর্ধ্বগতিতে রোজা শুরুর আগেই ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও আশঙ্কা করছেন, রমজান শুরু হলে দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপরতার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা বলেন, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য দপ্তরের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সেখানে অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।
রোজার আগে বাজারে ভিড় বাড়ছে প্রতিদিনই। তবে সেই ভিড়ের ভেতরে এখন সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে একটাই কথা, “আর কত বাড়বে?”
আরসি-০২