চলে গেলেন সিলেটের ফুটবলের মহীরুহ রণজিৎ দাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক


ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
১২:১৩ অপরাহ্ন


আপডেট : ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
১২:১৩ অপরাহ্ন



চলে গেলেন সিলেটের ফুটবলের মহীরুহ রণজিৎ দাস

চলে গেলেন সিলেটের ফুটবল–হকির মহীরুহ, ক্রীড়াসংগঠক রণজিত দাস। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে সিলেট নগরের তালতলা এলাকার পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

রণজিত দাসের মেয়ে নাট্যকার রীমা দাস তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন রণজিত দাস। সম্প্রতি সর্দি–কফের জটিলতা দেখা দিলে গত শনিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় নগরের চালিবন্দর এলাকার শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সিলেটের বাসিন্দা রণজিত দাস স্বাধীনতা–উত্তর এ উপমহাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিপুল সম্মান ও খ্যাতি অর্জন করেন। ফুটবলার হিসেবে তিনি ছিলেন বেশি পরিচিত। পাশাপাশি হকি ও ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। ১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেট শহরের জিন্দাবাজারের কুড়িটুলা এলাকায় তাঁর জন্ম। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা।

১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত রণজিত দাস পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলকিপার হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। এই সময়ে তিনি দুবার পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেন। ঢাকায় প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাতেও খেলেছেন তিনি। ১৯৫৭ সালে কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে মাঠে নামেন।

ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও ছিল তাঁর দৃপ্ত উপস্থিতি। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান হকি দল ও প্রথম বিভাগ হকি লিগসহ নানা প্রতিযোগিতায় খেলেছেন তিনি।

খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি ক্রীড়াসংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রণজিত দাস। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশন ঢাকার নির্বাহী কমিটির সদস্য, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক ও কোচ, পূর্ব পাকিস্তান যুব ফুটবল দলের কোচসহ নানা দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর স্মৃতিচারণমূলক বই ‘ক্রীড়াঙ্গনের ফেলে আসা দিনগুলো’।

আরসি-০১