সিলেট মিরর ডেস্ক
অক্টোবর ০৭, ২০২৬
০৯:২৫ অপরাহ্ন
আপডেট : অক্টোবর ০৭, ২০২৬
০৯:২৫ অপরাহ্ন
সিলেটের রেলের টিকেট আবারও কালোবাজারিদের কব্জায় গেছে। সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। এতে অনলাইনে কোনো টিকিট পাচ্ছেন না সাধারণ যাত্রী। আবার অতিরিক্ত অর্থ দিলে দালালদের কাছে মিলে যেকোনো দিনের টিকিট। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।
যাত্রীদের এমন দুর্ভোগে স্ব প্রণোদিত হয়ে কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমান। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের আদালতে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে মামলা (সিআর মামলা নম্বর ০১/২০২৬) দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার নথি সিলেট পিবিআই কার্যালয়ে পৌঁছেছে। মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই সিলেটের উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদ।
পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন সিলেট ভয়েসকে বলেন, ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়ে যায় দ্রুত তার প্রেক্ষিতে করার একটি মামলার তদন্তের দায়িত্বে দেয়া হয়েছে আমাদের। পিবিআই সিলেটের উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদকে তদন্তভারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তেই পরিষ্কার হবে, অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সিলেটের ট্রেনের টিকিট বিপুলসংখ্যায় বিক্রি হয়ে যাওয়ার পেছনে আসলে কী ঘটছে এবং এর সঙ্গে টিকিট কালোবাজারির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সব কিছু খতিয়ে দেখা হবে।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত, উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট দিনের টিকিট অনলাইনে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করেও বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। নির্দিষ্ট দিনের টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি চক্র টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি সিলেটের পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে মূলত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে একসঙ্গে এত টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা রয়েছে কি না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সিলেটের উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদ বলেন, মামলাটি সিনিয়র জুডিশিলায় ম্যজিস্ট্রেট আমলি আদালত ১১ নং থেকে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয় ১ অক্টোবর। সেদিন থেকেই আমাদের তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এরইমধ্যে ট্রেনের টিকিটের বিভিন্ন ডাটা সংগ্রহ করেছি এবং ভোক্তভোগীদের সাথেও কথা বলতেছি। তদন্ত শেষ হলেই বুঝা যাবে কিভাবে অনলাইনে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
এএফ/০২