তিন লাল কার্ডের ম্যাচে জয়ে শুরু মেক্সিকোর

খেলা ডেস্ক


জুন ১২, ২০২৬
০৪:১৬ পূর্বাহ্ন


আপডেট : জুন ১২, ২০২৬
০৪:১৬ পূর্বাহ্ন



তিন লাল কার্ডের ম্যাচে জয়ে শুরু মেক্সিকোর


বিশ্বকাপ শুরুর আগে 'মেক্সিকান ওয়েভ' দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক মেক্সিকো। উদ্বোধনী ম্যাচেও 'ওয়েভ' দেখাল দলটি। তবে শুধু গ্যালারিতে নয়, মাঠের ফুটবলে মেক্সিকো দেখিয়েছে গতি আর আক্রমণের ঝড়। সেই ঝড়ে রীতিমতো উড়ে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা পেয়েছে স্বাগতিকরা। মেক্সিকোর হয়ে দুই অর্ধে গোল দুটি করেছেন জুলিয়ান কুইনোনেস ও রাউল জিমিনেস।

তবে মেক্সিকোর জয় ছাপিয়ে বেশি আলোচনায় লাল কার্ড। ম্যাচে তিনবার লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড। এর দুটি দেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, অন্যটি মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সরাসরি লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সিথোল। ২৭ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের ভুলে ম্যাচের প্রথম গোলটি হজম করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৮ মিনিট আগে আরেকটি লাল কার্ড দেখেন থেম্বা জাওয়ানে। একটি লাল কার্ড দেখেছে মেক্সিকোও। ম্যাচের যোগ করা সময়ে খুলিসো মুদাউকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকো ডিফেন্ডার সিজার মন্তেস। 

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে মেক্সিকো। শুধু বলের দখলেই নয়, আক্রমণেও যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে জাভিয়ের আগুইয়েরের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে ১৬টি শট নিয়েছে মেক্সিকো, যার ৪টি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার গোলমুখে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো ম্যাচে শট নিতে পেরেছে মোটে ৩টি।

ম্যাচে মেক্সিকো প্রথম সুযোগ পেয়েছিল ৫ম মিনিটে। ডানপ্রান্ত থেকে বাড়ানোর ইসরায়েল রেয়েসের বাড়ানো ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে শট নিয়েছিলেন রাউল জিমিনেস। সেটি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক উইলিয়ামস। 

এ যাত্রায় না হলেও গোলের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি মেক্সিকোকে। ৪ মিনিট পরে গ্যালারিতে উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দেন কুইনোনেস। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। এ গোলটিতে আফ্রিকার অবদানও কম নয়। দলটির গোলকিপার পাস দিয়েছিলেন সিথোলকে। সেই বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডার। মেকিক্সোর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিরার চাপে পড়ে বল হারান সিথোল। অনেকটা সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি কুইনোনেস। দারুণ এক শটে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলের মালিক বনে যান ২৯ বছর বয়সী লেফট উইঙ্গার। 

এই গোলের পর মেক্সিকো যেন আরও উজ্জ্বীবিত হয়ে ওঠে। ১৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া কুইনোনেসের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। একবার তাঁর শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। প্রথমার্ধের শেষ ৫ মিনিটেই অন্তত তিনটি সুযোগ তৈরি করে আগুইরের শিষ্যরা। এরপরও ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যেতে হয় মেক্সিকোকে। 

দ্বিতীয়ার্ধেও দক্ষিণ আফ্রিকা রক্ষণে আক্রমণের ঢেউ বজায় রাখে মেক্সিকো। ৪৯ মিনিটে তেমনই এক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে গুতিয়েরেজকে ফেলে দিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সিথোল। ১০ জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকা।

এমনিতেই মেক্সিকোর আক্রমণ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল দলটি, তারওপর একজন কম নিয়ে আরও বেশি বিপদে পড়ে। মাঠে একজন বেশি খেলোয়াড়ের সুযোগ নিয়ে ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেক্সিকো। রবার্তো আলভারাদোর ক্রসে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান রাউল জিমিনেস। 

ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি লাল কার্ড দেখে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলটি আক্রমণে উঠলে মাটিতে পড়ে যান আলভারাদো। রেফারি শুরুতে খেলা চালিয়ে গেলেও পরে ভিএআর যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। মনিটরে ঘটনার রিপ্লে দেখে জাওয়ানেকে লালকার্ড দেখান তিনি। 


এএফ/০২