মানুষ আপনাদেরকে ’৭১ সালেই দেখেছে: জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ২২, ২০২৬
০৭:৪২ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ২২, ২০২৬
০৭:৫৫ অপরাহ্ন



মানুষ আপনাদেরকে ’৭১ সালেই দেখেছে: জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান

দেশে আবারও ভোট চুরির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালেই দেশের মানুষ তাদের ভূমিকা দেখেছে, ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকার আইনপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি রাজনৈতিক দল এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিষয়টি পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন করে ভোট চুরির প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে দেশের মানুষ বারবার ভোট ডাকাতির শিকার হয়েছে। এখন আবার একটি মহল ব্যালট পেপার গায়েব করার মতো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, কিছু দল আজ মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে, এমনকি গুনাহের কথাও বলছে। অথচ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা দেশের মানুষের অজানা নয়। তিনি বলেন, যদি সে সময় তারা দেশের পক্ষে থাকত, তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শহীদ হতে হতো না, মা-বোনদের সম্মানহানি ঘটত না।

তারেক রহমান বলেন, ‘আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ ’৭১ সালেই দেখেছে। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। দেশের মানুষ দেখেছে কারা দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।’

জনসভায় দেড় দশকের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর দেওয়া নিজের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশে ফেরার দিন তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। সেই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য দেশের বেকার যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

তিনি বলেন, শিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত সব তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে চায় বিএনপি। শুধু কর্মসংস্থান নয়, তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে তারা ভালো আয় করতে পারেন।

চা শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, মৌলভীবাজার এলাকায় প্রায় ১৩০টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানের শ্রমিকরা, বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা, অত্যন্ত কষ্টে দিনযাপন করেন। তাদের সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। চা শ্রমিকদের পাশাপাশি দিনমজুর, শ্রমিক ও কৃষকদের পরিবারও এই কার্ডের আওতায় আসবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী চালুর ভাবনার কথাও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, সমাজের সুখ-দুঃখে যাঁরা সব সময় মানুষের পাশে থাকেন, তাঁদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সে দায়িত্ব পালন করা হবে।

আরসি-০৫