শাকসু নির্বাচনে তিন প্যানেলে প্রার্থী ৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
০১:৪৪ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
০১:৫৫ অপরাহ্ন



শাকসু নির্বাচনে তিন প্যানেলে প্রার্থী ৯৭

প্রায় ২৯ বছরের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অপেক্ষার অবসান ঘটছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেন্দ্রীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৭ জন প্রার্থী, মাঠে সক্রিয় তিনটি প্যানেল।

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। নানা প্রতিবন্ধকতা, একাধিকবার সময়সূচি পরিবর্তন এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

শাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৭ জন এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন ৪ জন প্রার্থী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট পদ রয়েছে ২৩টি। অপরদিকে, হল সংসদে রয়েছে ৯টি পদ।

নির্বাচনকে ঘিরে তিনটি প্যানেল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। শিবির সমর্থিত ২৩ সদস্যের প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ২২ সদস্যের ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ এবং সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ১৭ জনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল। এ ছাড়া বিভিন্ন পদে রয়েছেন বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মোস্তাকিম বিল্লাহ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের দেলোয়ার হাসান শিশির, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ও ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের মুহয়ী শারদ এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুমিনুর রশীদ শুভ।

সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত মারুফ বিল্লাহ, পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবির সমর্থিত মুজাহিদুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ফয়সাল হোসেন, সমাজকর্ম বিভাগের জুনায়েদ আহমেদ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের পলাশ বখতিয়ার এবং পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের জুনায়েদ হাসান।

সহসাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন জৈবপ্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত জহিরুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবির সমর্থিত শাকিল মাহমুদ, অর্থনীতি বিভাগের আতাহারুল ইসলাম রাহিন এবং একই বিভাগের হাফিজুর ইসলাম।

এ ছাড়া ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২ জন, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৪ জন, সাহিত্য ও বার্ষিকী সম্পাদক পদে ২ জন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৩ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ২ জন, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক পদে ৩ জন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ৩ জন, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদে ৪ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৪ জন, শিক্ষা-গবেষণা-ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে ৫ জন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ৪ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন, কাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে ৪ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৫ জন এবং সদস্য পদে ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

হল সংসদ নির্বাচনেও রয়েছে সরব উপস্থিতি। ছেলেদের তিনটি হলে মোট ৯টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৩ জন প্রার্থী। শাহপরান হলে ১৭ জন, বিজয়–২৪ হলে ১৮ জন এবং সৈয়দ মুজতবা আলী হলে ১৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই তিনটি ছাত্র হলে মোট ৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

ছাত্রীদের তিনটি হলে মোট প্রার্থী ৩১ জন। আয়েশা সিদ্দিকা হলে ৯টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ১০ জন, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে ১১ জন এবং ফাতেমা-তুজ-জাহরা হলে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। ছাত্রী হলগুলোতে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় মোট ২১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের আশা, শাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

আরসি-০৬