সিলেটের মানুষ বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেবে: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক


সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
০৯:১৩ অপরাহ্ন


আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
০৯:১৩ অপরাহ্ন



সিলেটের মানুষ বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেবে: রাষ্ট্রপতি


সিলেটে নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘এটুকু বলতে চাই, সিলেটের মানুষের সঙ্গে আমি সবসময় ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো এবং ইনশাল্লাহ সিলেটের মানুষ বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেবে।’ 

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিলেটের নগর ভবন প্রাঙ্গনে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউস। অনুষ্ঠান মঞ্চে রাষ্ট্রপতির সহধর্মীনি রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলমা আলমগীর বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বলেন, ‘আমার বারবার করে মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা যখন আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এখানে সমাবেশ করেছি, লংমার্চ করেছি এবং পরবর্তীসময়ে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে লংমার্চ করেছি গণতন্ত্রের জন্য।’

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকে ১৫ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিকভাবে গণতন্ত্র দিবস পালন হয়। এই দিনটিতে আজকে আমি আপনাদের সামনে কথা বলতে পারছি। সেখানে দু’একটি কথা অবশ্যই আমাকে বলতে হবে। আজকে বহু ত্যাগ তিথীক্ষার বিনিময়ে, রক্তপাতের বিনিময়ে, আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটা ফ্যাস্টিস্ট সরকারকে সরিয়ে, দীর্ঘকাল লড়াইয়ের পর যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা একটা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে একটি নির্বাচন হয়েছে। অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমান নেতৃত্বে এখানে সরকার গঠন হয়েছে। এই সরকার চেষ্টা করছে অতি দ্রুততার সঙ্গে দেশকে কি করে একটা ভঙ্গুর অবস্থা থেকে আবার জাগিয়ে তোলা যায়।’

এসময় অতীতের আন্দোলন মুখর সময়কে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই আপনাদের বলতাম, আমরা যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করি তারা অনেকটা ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংস হয়ে যায় সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে আবার আপনাদের সামনে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।’

গণতন্ত্র রাক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রিয় বন্ধুগণ গণতন্ত্র পেয়েছি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আজকে যে বিরোধী দল আছেন, সরকারি দল আছেন, আমি মনে করি সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতন্ত্রটাকে টিকিয়ে রাখা। প্রধান দায়িত্ব হবে যে সংসদ আছে সেই সংসদকে ফাংশনাল করা। এবং অন্যান্য বিষয়গুলোতে দ্বিমত থাকতে পারে, সেই দ্বিমতগুলো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আগামী দিনগুলোতে, যেমন আমরা অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, সামনের লড়াই হচ্ছে আমাদের দেশকে পুর্নগঠনের জন্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যাতে সত্যিকার অর্থে একটা বাসযোগ্য আবাসস্থল আমরা নির্মাণ করতে পারি।’


এএফ/০৩