হাওরের ফসল রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের দাবিতে সিলেটে পোহাসের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক


এপ্রিল ০৪, ২০২৬
০৪:৫১ অপরাহ্ন


আপডেট : এপ্রিল ০৪, ২০২৬
০৪:৫১ অপরাহ্ন



হাওরের ফসল রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের দাবিতে সিলেটে পোহাসের মানববন্ধন


হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা (পোহাস)।

মানববন্ধনে সিলেটের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, কৃষক প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। 

পোহাস সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন পরিবেশ ও উন্নয়ন সংস্থা সভাপতি কাসমির রেজা। 

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা- সিলেট এর সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরী,  সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, ব্লাস্ট সিলেটের সাবেক কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান, মধ্যনগর উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম, ধর্মপাশার রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী, সমাজসেবী মো. দিলশাদ মিয়া, বংশীকুন্ডা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি জেনারুল ইসলাম প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে কাসমির রেজা বলেন, 'কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সুনামগঞ্জের ১২ টি উপজেলায় অর্ধশত হাওরে অন্তত দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমির কাঁচা ধান গাছে পচন ধরেছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। অন্যদিকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের অর্ধেক কাজ ও শেষ হয় নি। যা নজিরবিহীন। বাঁধের কাজে অনেক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আমরা ৯ মার্চ তাহিরপুরে মানববন্ধন করে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সতর্ক করেছি‌লাম। এখনো শতভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'

জামিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, বন্যা হোক কিংবা জলাবদ্ধতা উভয় ক্ষেত্রেই কৃষকের ক্ষতির ধরন একই। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সোনালি ফসল। কৃষকরা ঋণ করে চাষাবাদ করেছেন। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। শুধু ফসলই নয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে হাওর রক্ষায় তথাকথিত অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এর বাইরে কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। হাওরের বাঁধ এখন অনেক ক্ষেত্রে মরণ ফাঁদ হয়ে উঠেছে। এর বিকল্প ভেবে দেখতে হবে। 

ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে হাওরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্লুইসগেট স্থাপন ও পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছেন। হাওরের কিছু অংশে স্লুইসগেট স্থাপন করা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

বক্তারা বলেন, বোরো মৌসুমে অনাহুত পানি জমতে দেয়া যাবে না এবং একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল যাতে হাওরে ঢুকতে না পারে সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

বক্তারা স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা, কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে হাওর ব্যবস্থাপনার একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা জানান, ইতোমধ্যে তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের সিংহ ভাগ ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য হাওরগুলোর মধ্যে পাখিমারা হাওড়, দেখার হাওড়, করচার হাওড়, কানলার হাওড়, খাই হাওড়, শাল্লার ছায়ার হাওড়, জামালগঞ্জের হালির হাওড়, পাগনার হাওড়, তাহিরপুরের শনির হাওড়, মাটিয়ান হাওড়সহ , দিরাই উপজেলার কালিকোটা, টাংনি, হুরামন্দিরা, বরাম ও চাপতির হাওরের, মধ্যনগরের ঠগার হাওর,শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর, সাংহাই হাওর, খাই হাওর, জামখলা হাওর ও কাঁচিভাঙা হাওরের নিচু জমিগুলোও পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। 

মানববন্ধন থেকে বক্তারা যেসব দাবি তুলেন তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, হাওরে ব্যাপক ভিত্তিতে নদী খনন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্লুইসগেট স্থাপন ও খাল পুনঃখনন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ক্ষতিপূরণ ও প্রণোদনা, হাওর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ, গবেষণা করে অস্থায়ী বাঁধের পরিবর্তে কার্যকর প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। 

মানববন্ধন থেকে বক্তারা হাওরের ফসল রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।


এএফ/০১