এয়ারলাইন্সের সিন্ডিকেটে বিপাকে সিলেটের মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক


ডিসেম্বর ১৪, ২০২১
০৬:০৫ অপরাহ্ন


আপডেট : ডিসেম্বর ১৪, ২০২১
১১:২৭ অপরাহ্ন



এয়ারলাইন্সের সিন্ডিকেটে বিপাকে সিলেটের মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা
# ২০ হাজার প্রবাসীর কাজে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা # সংকট নিরসনে আটাবের চার প্রস্তাব

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার বিমান ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে। অনেকে অতিরিক্ত দাম দিয়েও পাচ্ছেন না টিকেট। এতে সিলেটের প্রায় ২০ হাজার প্রবাসীর কাজে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এয়ারলাইন্সগুলোর সিন্ডিকেটের কারণেই হঠাৎ করে মধ্যপ্রাচ্যের টিকেটের দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, দুবাই ও আবুধাবি রুটে আগে ভাড়া ছিল ৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে ৮৭ হাজার টাকা। মাস্কাট রুটে আগে ভাড়া ছিল ৩৫ হাজার টাকা, এখন ৭২ হাজার টাকা। সৌদি আরব যেতে আগে ৪২ হাজার টাকা লাগতে, এখন লাগছে ৭৫ হাজার টাকা। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়া, বুস্টার ডোজ ছাড়া ফেব্রুয়ারি থেকে সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ভিসা অনুমোদন বৃদ্ধিসহ কয়েকটি কারণে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য রুটে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে প্লেন ভাড়া দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় আসন সঙ্কট থাকায় এয়ারলাইনস সিন্ডিকেট লাগামহীন ভাড়া বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এ পরিস্থিতিতে রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত প্রবাসীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। টিকেটের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে না পারলে দরিদ্র শ্রমিকদের বিদেশযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী শহিদ আলী সিলেট মিররকে বলেন, ‘আগামী ২১ ডিসেম্বর আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এর আগেই কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। কিন্তু টিকেট পাচ্ছি না।’

আরেক প্রবাসী মোছাব্বির চৌধুরী বলেন, ‘যে টিকেটের দাম আগে ৩০ হাজার টাকা ছিল। এখন সেটি কিনেছি ৯০ হাজার টাকায়। প্রবাসীরা দেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা। কিন্তু সিন্ডিকেট করে আমাদের টাকা লুট করা হচ্ছে।’

প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী শ্রমিক, হজ ও ওমরাহ পালন ও পর্যটক হিসেবে অন্তত পাঁচ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো তিন হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে পারছে না। এ সমস্যা নিরসনে চারটি প্রস্তাব দিয়েছে আটাব। এগুলো হচ্ছে- বিমান বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো, এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য অতিরিক্ত সøট অনুমোদনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ভাড়া ঘোষণা এবং অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধে রেগুলেটরি বোর্ড গঠন করা। এসব দাবি জানিয়ে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে আটাব।

এ বিষয়ে আটাব সিলেট জোনের সাবেক সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল সিলেট মিররকে বলেন, ‘করোনার পর সব যখন স্বাভাবিক হলো তখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে হঠাৎ করেই গত এক মাসে এই রুটে বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলোর সিন্ডিকেট। অটোমেশন পদ্ধতিতে টিকেট বিক্রি করা গেলে এই সঙ্কট দূর করা যাবে। এই রুটে যাত্রীর চাপ বেশি, তাই ফ্লাইটও বাড়ানো উচিত।’

একই দাবি করে হাব সিলেটের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, ‘ফ্লাইট বাড়ানো ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাগব করা যাবে না। একেকটি টিকেটের দাম তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। একজন প্রবাসীর পক্ষে এত দাম দিয়ে টিকেট করা অসম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদও কম থাকে। ফলে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত দাম দিয়ে টিকেটও পাচ্ছেন না।’

টিকেট সঙ্কটে সিলেটের প্রায় ২০ হাজার মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রী বিপাকে পড়েছেন জানিয়ে হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সিলেট জোনের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল কবির চৌধুরী শীরু সিলেট মিররকে বলেন, ‘ওমিক্রনের সংক্রমণ ও ভিসা অনুমোদন বৃদ্ধির কারণে দেশের মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। এই সুযোগে এয়ারলাইন্সগুলো সিন্ডিকেট করে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। প্রতিদিন আমাদের কাছে অসংখ্য মানুষ আসছেন টিকেটের জন্য। অতিরিক্ত দাম দিয়েও টিকেট সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে ৬ ঘণ্টার ভ্রমণে রিয়াদ যেতে লাগছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। আর নিউইয়র্কে ২৩ ঘণ্টার ভ্রমণে টিকিটের দাম মাত্র ৬৫ হাজার টাকা। এটা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। সরকারকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ফ্লাইট বাড়াতে হবে।’

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইটের টিকেটের অতিরিক্ত দামের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার পাঠানো এক চিঠিতে ফ্লাইটের টিকিটের দাম কমাতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এনএইচ/আরসি-০৬