মোহাম্মদ বিলাল
২৮ জুন , ২০২৬
ভূমিকা
প্রকৃতির লীলাভূমি সিলেটে একশ চৌত্রিশ বছর ধরে আলোকধারা ছড়িয়ে যাচ্ছে মুরারিচাঁদ কলেজ। এ কলেজের ভূ-বৈচিত্র্য,বিস্তৃত ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো যেমন নয়নাভিরাম, তেমনই শিক্ষা ও সংস্কৃতিগত বিকাশধারাও ঐতিহ্যময়। সিলেটের ভূ-প্রকৃতি ছোটো ছোটো টিলা, পাহাড় ও হাওর-বাঁওর দ্বারা বৈচিত্র্যময়। মুরারিচাঁদ দাঁড়িয়ে আছে সিলেট থেকে তামাবিল রাস্তার পাশে, এ অঞ্চলটি মূলত খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়শ্রেণির বিস্তৃত ভূমিরূপের অন্তর্গত। এর ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে পাহাড়িয়া ভূমির কোনোরূপ পরিবর্তন না করেই। ফলে কয়েকটি ভবন নির্মিত হয়েছে টিলার ওপর, কয়েকটা রয়েছে সমতলে। এর পুরনো ভবনসমূহের কয়েকটি ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যরীতির, কতকগুলো আসাম-প্যাটার্ন নামে পরিচিত বাঁশ-বেত, কাঠের পেটি-বর্গা, চুন ও সুরকির দ্বারা তৈরি।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সিলেটের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল সনাতনী অর্থাৎ মসজিদ-মক্তব আর টোলকেন্দ্রিক। কিন্তু কলেজে পড়তে হলে সিলেটের শিক্ষার্থীদের যেতে হতো ঢাকা, রাজশাহী, কলকাতা বা আলীগড়ে বা অন্য কোথাও। এমতাবস্থায় মুরারিচাঁদ কলেজ প্রতিষ্ঠা ছিল আসামপ্রদেশে রেনেসাঁ সঞ্চারের মতো সুদুরপ্রসারী ঘটনা। ব্রিটিশপর্বে কলেজটির বিদ্যায়তনিক পরিমণ্ডল-পাঠদান ও ফলাফল, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ধর্ম-দর্শন-বিজ্ঞানচর্চা এবং রাষ্ট্র ও স্বদেশচিন্তার বিকাশ সেই সাক্ষ্য দেয়।
প্রতিষ্ঠাপর্ব
কালগত দিকটি বিবেচনা করলে দেখা যায় কলকাতা মাদ্রাসা (১৭৮১), সংস্কৃত কলেজ (১৭৯১), ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০) বা হিন্দু কলেজ (১৮১৭), ঢাকা কলেজ (১৮৪১), চট্টগ্রাম কলেজ (১৮৬১), রাজশাহী কলেজ (১৮৭৩), জগন্নাথ কলেজ (১৮৮৩), আনন্দমোহন কলেজ (১৮৮৩), নড়াইল ভিক্টরিয়া কলেজ (১৮৮৬), এডওয়ার্ড কলেজ (১৮৮৯), ব্রজমোহন কলেজের (১৮৮৯) পরে প্রতিষ্ঠিত হয় মুরারিচাঁদ কলেজ (১৮৯২)।রাজা গিরিশচন্দ্র রায় বর্তমান সিলেট সিটি কর্পোরেশনসংলগ্ন রাজা জিসি হাই স্কুলে ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুন মুরারিচাঁদ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্কুলটির তখনকার নাম ছিল ‘মুরারিচাঁদ হাই স্কুল’; তিনি ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নিজের মাতামহের নামে স্থাপন করেছিলেন। রাজা গিরিশচন্দ্র রায় আমৃত্যু কলেজটির পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
অধ্যাপক আবদুল আজিজ তার ‘মুরারিচাঁদ কলেজের ইতিকথা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলেজটি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনির টার্গেটে পরিণত হয়। বোমা ও গুলি বর্ষণের ফলে লাইব্রেরি ভবন, রসায়নের গবেণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসসিক ভবন, ছাত্রবাসের মিলনায়তন, আসবাবাপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আসাম প্যাটার্নের অনিন্দ্যসুন্দর ছাত্রাবাসটি ২০১২ সালের আট জুলাই আবার বর্বরতার শিকার হয়, কয়েকটি ব্লক ছাত্ররাজনীতির কোন্দলের আগুন দ্বারা দুষ্কৃতকারীরা পুড়িয়ে দেয়।
সূচনাকালে মুরারিচাঁদ কলেজ কলাবিষয়ক ঝবপবড়হফ-মৎধফব কলেজ হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। তখন শিক্ষক ছিলেন চার জন, ছাত্র আঠারো জন। প্রথম পাঁচ বছরে এফএ পাস করেন চব্বিশ জন।
মুরারিচাঁদ কলেজের লাইব্রেরি বিষয়ে আলাদাভাবে বলতে হয়। এর আয়তন ৩৮৭০ বর্গ ফুট। এতে ১০০০ শিক্ষার্থী বসার ব্যবস্থা রাখা হয়, দেয়ালে দেয়ালে সংযুক্ত করা হয় বই রাখার সুউচ্চ দৃষ্টিনন্দন আলমারি। গড়ে তোলা হয় বইপুস্তক ও পত্রপত্রিকার বিপুল সমাহার। ফলে ১৯২৬ সালে কলেজ লাইব্রেরিতে বইপত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০০০-এ এবং ১৯৪০ সালে তা উপনীত হয় ১২১৮৭ কপিতে। পুরাতন বইপত্রের এত বিপুল সমাহার এখন অবশ্য লাইব্রেরিতে নেই, মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার দ্বারা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয় তেমনই অন্যান্যভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
অধিভুক্তি, পাঠদানের শ্রেণি ও বিষয়
মুরারিচাঁদ কলেজ ১৮৯২-১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং ১৯৪৭-১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং ১৯৬৮-৯১ খ্রি. পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে বিজ্ঞান শাখা চালু হয় ১৯১৩-তে; পাঠ্যবিষয় ছিল ইংরেজি, মাতৃভাষা, অংক, যুক্তিবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, সংস্কৃত, ফারসি, ইতিহাস ও পদার্থবিদ্যা। ১৯১৬-তে চালু হয় বিএ; পাঠ্যবিষয় ছিল ইংরেজি, মাতৃভাষা, গণিত, ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃত ও ফারসি। বিএসসি চালু ১৯২৬ সালে। এ-সময় ডিগ্রি ক্লাসে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয় অনুমোদিত হয়। ১৯১৮-তে সংস্কৃতে এবং ১৯২২-এ ইংরেজি, গণিত, ইতিহাস, দর্শন, ফারসি, আরবিতে এবং ১৯২৭-এ পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে চালু হয় অনার্স কোর্স। পাকিস্তান সৃষ্টির কয়েক বছর পর ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে সাময়িকভাবে অনার্স কোর্স তুলে নেওয়া হয়। তবে ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় ইংরেজি, বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা অনার্স কোর্স প্রবর্তিত হয়। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে মুরারিচাঁদ কলেজ নবপ্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় এবং ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এখানে ইংরেজি, বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও গণিতে মাস্টার্স ১ম পর্ব শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রধানত শিক্ষক স্বল্পতার কারণে মাস্টার্স প্রথমপর্ব কোর্স বিলুপ্ত হয়। অপর দিকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে উদ্ভিদবিজ্ঞান, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রাণিবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান অনার্স কোর্স চালু হয়। পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে মাস্টার্স কোর্স প্রবর্তিত হয়। ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হয় মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স। বর্তমানে মানবিক ও বিজ্ঞান অনুষদ মিলিয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে পনেরোটি বিষয়ে, মাস্টার্স আছে ষোলোটিতে। ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে শুধু মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় পনেরো হাজার। কিন্তু সীমাবদ্ধতা রয়েছে একটি জায়গায়, এই খ্যাতনামা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বাণিজ্য ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা নেই। এক সময় এখানে বাণিজ্য ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা ছিল, এটি চালু করার দাবি অনেক দিনের।
প্রকাশনা
ব্রিটিশ শাসনামলে মুরারিচাঁদ কলেজের মুখপত্র হিসেবে ঞযব গঁৎধৎরপযধহফ ঈড়ষষবমব গধমধুরহব নামে একটি ত্রৈমাসিক জার্নাল ১৯১৭-৩৯ পর্যন্ত একটানা তেইশ বছর বের হয়। প্রথম কয়েক বছর এটি পাঁচ থেকে আট সংখ্যা পর্যন্ত বেরিয়েছিল। এতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক ও সৃজনশীল লেখা সম্পাদকীয় ও কলেজের ফলাফল ও অন্যান্য কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ১৯৪২ সালে দুখন্ডে প্রকাশিত হয় ঞযব গঁৎধৎরপযধহফ ঈড়ষষবমব এড়ষফবহ ঔঁনরষবব ঠড়ষঁস.এই বিদ্যায়তনটিতে ১৮৯২-১৯৪৭ কালপর্বে একদল বিজ্ঞান-লেখক গড়ে উঠেন যারা এই প্রতিষ্ঠানেরই ছাত্র অথবা শিক্ষক ছিলেন। তখন জার্নালটিকে ঘিরে বিকশিত হয়ে উঠেন তুখোড় কবি, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার যাঁদের রচনার ভিত্তি ছিল সুরমা-বরাক উপত্যকার জনজীবন-প্রেম ও মানবতাবোধ, সমাজ ও সংস্কৃতি, স্থানীয় প্রকৃতি ও পরিবেশ। নিঃসন্দেহে উনিশ শতকের শেষার্ধ ও বিংশ শতকের প্রথমার্ধের সুরমা-উপত্যকার জনজীবনই ছিল রচনাগুলোর পটভূমি, মূল প্রেরণা ছিল আত্ম-আবিষ্কার। আধুনিক শিক্ষার আলোকসম্পাত তখন শহরজীবন হতে গ্রামীণ জীবনে পড়তে শুরু করেছে।
মুরারিচাঁদ কলেজ ম্যাগাজিন-এ প্রকাশিত গল্পসমূহের দিকে তাকালে মনে হয় গল্পকারেরা তাঁদের রচনায় এই জনপদে নতুন জীবনচিন্তা-সামন্ততান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বদলে সর্বজনীন মানবতাবোধ ও স্বাধীন জীবনচিন্তাকে ধারণ করেছেন এবং ছড়িয়ে দিয়েছেন। এসব গল্প-কবিতা-প্রবন্ধের বেশির ভাগই বিষয়গুণ ও বুননকৌশলের দিক থেকে কালোত্তীর্ণ। কিন্তু সুরমা-বরাক উপত্যকা বা তৎকালীন সিলেট জেলাকে যেহেতু বঙ্গভুমি হতে বিচ্ছিন্ন করে যুক্ত করা হয়েছিল আসাম প্রদেশের সঙ্গে, সেহেতু এ-সময়কালের জীবনবোধ, ভাষা ও সাহিত্যচিন্তাও বাংলা সাহিত্যের মূলধারায় যুক্ত হয়নি। ফলে বাংলা সাহিত্যধারায় এই লেখক ও চিন্তকগণ থেকে গিয়েছেন নেপথ্যে এবং সুরমা-উপত্যকায় তাঁরা যে জীবন বদলানোর চিত্র এঁকেছেন তা এক রকম অনালোচিতই থেকে গিয়েছে। সে সময়ের কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত কবিতা ও প্রবন্ধাবলির ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। তখন জুরি বোর্ডের মাধ্যমে কলেজ ম্যাগাজিনের প্রতিটি সংখ্যার শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ ও কবিতা নির্বাচন করে স্বতন্ত্রভাবে পনেরো টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হতো। এ চিত্র আজকাল কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আছে বলে ভাবা যায় না। সাতচল্লিশের পর হতে কলেজের মুখপত্রটি কখনও ঞযব গঁৎধৎরপযধহফ ঈড়ষষবমব গধমধুরহব নামে, কখনও ‘মুরারিচাঁদ কলেজ বার্ষিকী’ নামে অনিয়মতভাবে প্রকাশিত হয়; মুক্তিযুদ্ধের পর হতে ‘পূর্বাশা’ নামে অনিয়মিতভাবেই প্রকাশিত হয়ে আসছে। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ হতে প্রকাশিত হচ্ছে গবেষণাপ্রত্রিকা ‘মুরারিচাঁদ কলেজ জার্নাল’ (আইএসএসএন ২৭০৭-৯২০১)। এছাড়াও কলেজের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন বিভাগ ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সাময়িকী প্রকাশ করে থাকে। সময় সময় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সেমিনার, পহেলা বৈশাখ, বসন্তবরণ প্রভৃতি অনুষ্ঠান উদ্যাপন করা হয়। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্র-আগমনের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে দুদিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে আয়োজন করা হয়।
মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাক্তনী
মুরারিচাঁদ কলেজের শিক্ষার্থীগণ মুরারিয়ান নামেই পরিচিত। শত বছর পেরিয়ে মুরারিয়ানগণ এতদঞ্চলে তো বটেই, দেশ ও বহির্বিশে^ অনন্য অবদান রেখেছেন। প্রধানত শিক্ষাবিদ- প্রকৌশলী-ডাক্তার, ব্যুরোক্রেট-কুটনীতিক, রাজনীতিবিদ-জনপ্রতিনিধি-মন্ত্রী, দার্শনিক-প্রত্নতাত্ত্বিক-ঐতিহাসিক, কবি-লেখক-গবেষক, পত্রপত্রিকার সম্পাদক-বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষক, অর্থনীতিবিদ-বিচারপতি-আইনজীবী হিসেবেতাঁদের অনন্য অবদান রয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে আলতাফ হোসেন, নীহার রঞ্জন রায়, প্রবোধ চন্দ্র সেন, আবদুল মতিন চৌধুরী, আব্দুল হামিদ, মজদউদ্দিন আহমদ, সত্যেন্দ্র কুমার রায়, সৈয়দ মুর্তজা আলী, সয়ফুল আলম খান, যতীন্দ্র মোহন ভট্টাচার্য, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, কমলাকান্ত গুপ্ত চৌধুরী, অশোক বিজয় রাহা, দেওয়ান আব্দুর রব চৌধুরী, শাহেদ আলী, মঞ্জুশ্রী চৌধুরী, আবদুস সামাদ আজাদ, দেওয়ান ফরিদ গাজী, মেজর জেনারেল মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, কর্নেল তাহের, রাজিউর রহমান, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ, নুরুর রহমান চৌধুরী, তাসাদ্দুক আহমদ, মোহম্মদ আবদুর রব বীরোত্তম, আখলাকুর রহমান, শাহ এসএম কিবরিয়া, কাজী ফজলুর রহমান, দিলওয়ার, আবুল মাল আবুল মুহিত, এম. সাইফুর রহমান, খন্দকার রহুল কুদ্দুস, প্রসূন কান্তি রায় (বরুণ রায়), কাজী আব্দুল মান্নান, মাহমুদুল আমিন চৌধুরী, আতাউর রহমান চৌধুরী, সদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ হাবিুবুর রহমান, মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, মোফাজ্জল করিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যায়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, যথা-খেলাফত-অসহযোগ-সত্যাগ্রহ আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে এ কলেজের ছাত্রশিক্ষক অনন্য অবদান রয়েছে।
বিশিষ্টজনের আগমন
ব্রিটিশ পিরিয়ডে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কলেজ ছাত্রবাসে, সরোজিনী নাইডু ও জওহরলাল নেহুরুকে কলেজ-ক্যাম্পাসে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা-উত্তরকালে, ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে মরহুম রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি জনসভা থেকে ফেরার পথে ছাত্র-শিক্ষকদের আমন্ত্রণে কলেজে পদার্পণ করেন এবং কলাভবনে উঠার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ প্রদান করেন। সে সময় তিনি চারটি টিভি, একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাস ও ক্রীড়া সামগ্রী কেনা জন্য অর্থ মঞ্জুর করেন। ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রপতি জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ সিলেটে বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচনের উদ্দেশ্যে মুরারিচাঁদ কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনের পাশের টিলায় আগমন করেন। কৃতী মুরারিয়ান আবুল মাল আবুল মুহিত, এম. সাইফুর রহমান, এ কে আবদুল মোমেন প্রমুখ ব্যক্তিগণ তাঁদের মন্ত্রীত্বকালে একাধিকবার কলেজ শুভাগমন করেন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক প্রকল্পে করেন যুক্ত করেন।