বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
মার্চ ১৪, ২০২৬
১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট : মার্চ ১৪, ২০২৬
১২:৪০ পূর্বাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুম কবির বলেছেন, বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরে কোন চাঁদাবাজি চলবে না। বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর আমার কাছে কোন পার্থক্য নেই। ওসমানীনগরে একটি স্কুল হলে বিশ্বনাথে হবে ৩টি। রাস্তা ওসমানীনগরে ২টি হলে বিশ্বনাথে হবে ৩টি। আজ ইলিয়াস আলী ও সুহেল আহমদ চৌধুরী নেই মনে করবেন না আপনারা এতিম হয়ে গেছেন। এখানে আমি আছি। আপনারা আমার সঙ্গে থাকলে আমারও কোনো ভয় নাই।
তিনি শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিলেটের বিশ্বনাথে পৌর শহরের কারিকোনা গ্রামের ফুটবল খেলার মাঠে ‘উপজেলা পরিষদের দু-বারের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি’ সদ্য প্রয়াত মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনায় মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘ইফতার ও দোয়া মাহফিল’ পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, সকল গুণে গুণান্নিত একজন মানুষ ছিলেন মরহুম সুহেল আহমদ চৌধুরী। সর্বস্তরের মানুষের সাথে ছিলো তাঁর অত্যন্ত সুসম্পর্ক। যে কারণে এই এলাকার মানুষ তাঁকে দু-দু’বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে ছিলেন। তাই আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে সুহেল আহমদ চৌধুরীর শূন্যতা খুব বেশিই মিস করে যাব। তবে আপনারা মনে করবেন না ‘সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী’ বর্তমানে রাজনীতিতে অনুপস্থিত বলে আপনারা অভিভাবক শূন্য, আমি আছি আপনাদের পাশে। আর আপনারা আছেন আমার পাশে। আর তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলমান সরকারের আমলে বিশ্বনাথ তথা সিলেট-২ আসনের উন্নয়ন থেমে থাকবে না। তবে ওসমানীনগরের চেয়ে আমি সব সময়ই বিশ্বনাথকে অগ্রাধিকার দিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরোও বলেন, বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের কাঙ্খিত উন্নয়নের জন্য দল-মত নির্বিশেষে রাজনীতিতে ভালো মানুষের সমাগম ঘটাতে হবে। এখন ভালো মানুষের রাজনীতি করার সময়। আপনারা মনে রাখবেন বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরে কোন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর জায়গা নেই, এখানে কোন চুর-ডাকাতের জায়গা নেই। বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর হলো ভালো মানুষের এলাকা। তাই প্রশাসনের যারাই আছেন, এলাকার মানুষ যাতে অযথা হয়রাণীর শিকার না হন সেজন্য আপনারা ‘সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার’ সাথে নিজেদের কাজ করে যান। কোন কাজে আমার সহযোগীতা লাগলে, বলবেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য আপনাদেরকে সার্বিক সহযোগীতা করতে আমি সর্বদা প্রস্তুত আছি।
বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার সভাপতিত্বে ও অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের পরিচালনায় ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় বিশিষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমীর নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, জেলা যুবদলের জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের। প্রবাস থেকে মুঠোফোনে বক্তব্য রাখেন মরহুমের ছোট ভাই সুমন পারভেজ চৌধুরী।
আলোচনা সভা শেষে মোনাজত করেন জামেয়া মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার নায়েবে মুক্তামিম মাওলানা ফয়জুর রহমান। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তার, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি, পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, প্রকৌশলী আবু সাঈদ, ওসমানীনগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমরান রব্বানী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্বাস আলী, এলাকার মুরব্বী গোলাপ খান, বিশ্বনাথ সদর ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার দযাল উদ্দিন, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন, খছরুজামান খছরু, ব্রিটেনের কাউন্সিলর নেছার আলী, জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবদুল ওয়াদুদ, পূর্ব কারাকোনা গ্রামের মোতাওয়াল্লি সিরাজ আলী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম এ মল্লিক, জামাল উদ্দিন, মরহুম সুহেল আহমদ চৌধুরীর বড় ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুক্তার আহমদ চৌধুরীসহ জেলা উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এএফ/০১