সিলেট মিরর ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬
০২:৫০ অপরাহ্ন
আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬
০২:৫০ অপরাহ্ন
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের দ্বিধা-বিভক্তিতে দিন দিন সংকট বাড়ছে। এরইমধ্যে শিক্ষক সমিতির সাদা দলের বিপরীতে সোনালি দলের আত্মপ্রকাশকে ঘিরে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে।
জানা গেছে, সোনালি প্ল্যাটফর্মের শিক্ষকরা বর্তমান উপাচার্যের সমর্থনপুষ্ট। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জের ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সিকৃবির শিক্ষক সমিতিতে শুরু হয় বিভক্তি। একপক্ষ উপাচার্যের সমর্থক। অপর পক্ষ অবস্থান নিয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিষয়টি তুলে ধরে সাদা দলের শিক্ষকরা বলছেন, সোনালি দল হিসেবে কোনো প্ল্যাটফর্ম বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মপ্রকাশের সুযোগ নেই। কারণ, সোনালি দল ছিল বিগত বিএনপি-জামায়াতের জোটবদ্ধ কমিটি। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় আর জামায়াত বিরোধী দল। সেহেতু তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মের নামে কোনো অবস্থান সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হলে সাদা দলের শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে মানববন্ধন হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালসহ অন্যদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরে সাদা দলের শিক্ষকরা দেখা করতে যান। এ সময় উপাচার্য ও তার সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সাদা দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এতে তাদের এক শিক্ষকের ঠোঁটে আঘাত লাগে এবং আরও কয়েকজনকে মারধর করা হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে উপাচার্য দিনে ও রাতে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। ইউজিসির নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিয়োগ চালিয়ে যান। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ না দিয়ে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেন।
শিক্ষকরা বার বার এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক শাহানা বেগম বলেন, ছাত্রদের যে ভবিষ্যৎ স্পৃহা, সেটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই নিয়োগের মাধ্যমে। উপ-উপাচার্য নিজের পছন্দমতো নিয়োগ দিচ্ছেন উপাচার্য।
এদিকে সিকৃবির সাদা দলের শিক্ষকদের দ্বারা মব সৃষ্টির মাধ্যমে উপাচার্য আলীমুল ইসলামসহ অন্যদের আহত হওয়ার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী সোনালি দল নামের প্ল্যাটফর্ম থেকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশের মতবিনিময় সভা করেন। এছাড়া সাদা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হলেও তা আমলে না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সোনালি দলের সভাপতি অধ্যাপক রাশেদ হাসনাত। সোনালি দলের সাধারণ সম্পাদক মাছুদুর রহমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন, সোনালি দলের সহসভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ আসাদ-উদ-দৌলা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ আল মামুন প্রমুখ।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে সিকৃবি শিক্ষক সমিতির সাদা দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৫ ফেব্রুয়ারি সিকৃবিতে সংঘটিত তথাকথিত সোনালি দলের শিক্ষকরা সাদা দলের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি এবং উপাচার্যসহ অন্যদের ওপর হামলার যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সদা দলের সভাপতি অধ্যাপক মেহতাজুল ও সাধারণ সম্পাদক শাহানা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন উপাচার্যের কক্ষে আলোচনা করতে গেলে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাকে থামাতে গিয়ে আহত হন অধ্যাপক মাহবুব ইকবাল। মব সন্ত্রাসের কথা বলে প্রশাসনিক অনিয়ম আড়াল করছে সোনালি দল নামের কথিত একটি সংগঠন।
উপাচার্য আলীমুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সত্য নয়। সিলেকশন বোর্ডের সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে। লেকচারার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং প্রফেসর সিলেকশনের ব্যাপারে বোর্ডের মধ্যে সিন্ডিকেট মেম্বার এবং পিএসসি মেম্বার রাখা হয়েছে।
আরসি-০২