শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে জবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

সিলেট মিরর ডেস্ক


ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬
০৩:১৪ অপরাহ্ন


আপডেট : ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬
০৩:১৪ অপরাহ্ন



শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে জবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে জবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের পর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তিন শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একইসাথে হামলার ঘটনায় দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন? জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘হামলাকারীদের বিচার চাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করো, ক্যাম্পাস সন্ত্রাস মুক্ত করো’, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, চলবে না চলবে না,’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। 

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, খেলা শেষে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও ইট নিয়ে আমাদের বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একজন ছাত্রের অবস্থা সংকটাপন্ন।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আকরামুল হক বলেন, দোষীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে, তা নাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব। সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির নামে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমাদের বিভাগের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড বাতিল করা হয়েছে এবং গোলকিপারের বয়স নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল।

এ সময় মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে পাঁচটি দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—

১. হামলায় জড়িত নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীসহ ভিডিওতে শনাক্ত সকল দোষীকে তদন্তসাপেক্ষে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।

২. রিফাতুল ইসলামের ওপর হত্যাচেষ্টা ও শিক্ষক ড. ছালেহ উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে।

৩. অনলাইনে উসকানি ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণিত করতে হবে; অভিযোগ মিথ্যা হলে চরিত্রহননের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে।

এ সময় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তঃবিভাগ ফুটবল ম্যাচের ফাইনালে টাইব্রেকারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৩–২ গোলে জয় লাভ করে। খেলা শেষে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি ও কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাঠে দায়িত্ব পালনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হন।

জিসি / ০৪