হাসান নাঈম, শাবিপ্রবি
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) গৌরব, ঐতিহে আর সাফল্যে ৩১ বছর পূর্ণ করে ৩২বছরে পদার্পণ করেছে আজ। তৎকালীন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর আপ্রাণ প্রচেষ্ঠায় ১৯৮৫ সালে ২৫ আগস্ট শাবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এ প্রতিষ্ঠানটির।
সিলেটের মুল শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে আখালিয়ার বুকে ৩২০ একর ভূমির উপর ১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ৩টি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক ও ২০৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে শাবিপ্রবি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউট নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এতে ৯ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।
এছাড়া অবকাঠামোগত দিক দিয়ে বর্তমানে দুটি প্রশাসনিক ভবন, ছয়টি একাডেমিক ভবন, তিনটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হল, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, ইউনিভার্সিটি ক্লাব, ইউনিভার্সিটি সেন্টার ভবনগুলো নিয়ে চলছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। তাছাড়া আরো ৮টি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে।
পাহাড় আর অরণ্যঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতি প্রেমীদেও মুহূর্তেই বিমোহিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে বৃক্ষশোভিত এক কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে কৃত্রিম জলাশয়, গোলচত্বর থেকে আইআইসিটি ভবন, বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, চেতনা একাত্তর, কেন্দ্রীয় মিলনায়তন, আবাসিক হলের পাশের দৃষ্টিনন্দন টিলাগুলো দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ৫৮টির অধিক সাংস্কৃতিক সংগঠনে নিয়মিত কার্যক্রমতো আছেই।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্জনের পাশাপাশি সুনাম কুড়িয়েছে দেশ-বিদেশে। শাবিপ্রবির অর্জনগুলোর মধ্যে- এসএমএসে ভর্তি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু, ডোপ টেস্টের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম, সেমিস্টার পদ্ধতি চালু, ক্যাম্পাসে অপটিক ফাইবার নেটওয়ার্ক, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল চালু, যানবাহন ট্র্যাকিং ডিভাইস এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বাংলা সফটওয়্যার ‘মঙ্গল দ্বীপ’ উদ্ভাবন, চালকবিহীন ড্রোন তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন একুশে বাংলা কীবোর্ড, বাংলা সার্চ ইঞ্জিন পিপিলিকা, কথা বলা রোবট 'রিবো', হাঁটতে সক্ষম রোবট ‘লি’ তৈরি, ক্যান্সার নির্ণয়ের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন, সেকেন্ড মেজর কোর্স, ব্লক চেইন পদ্ধতিতে সার্টিফিকেচ যাচাই ইত্যাদি। শাবিপ্রবি থেকে পাস করে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন, মাইক্রোসফ্টসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
এছাড়া তথ্য প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড পুরষ্কার-১৭’ ২০১৮ সালে ‘নাসা স্পেস চ্যালেঞ্জ অ্যাপস’ অংশ নিয়ে বেস্ট ডাটা ইউটিলাইজেশন ক্যাটাগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, প্রযুক্তি খাতে অবদানের জন্য ‘ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড'-২০ অর্জন করেছে এটি।
দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা-গবেষণায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শতাধিক পুরস্কার লাভের পাশাপাশি সুশাসন, র্যাগিং মুক্ত এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অন্যান্য উচ্চতায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ থেকে উচ্চতরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বদ্ধ পরিকর ।
আরসি-০১