নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
০৪:২২ পূর্বাহ্ন
আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
০৪:২২ পূর্বাহ্ন
পাশাপাশি দুই ঈদগাহ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার দাউদপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর গ্রামে দু পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৮-৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ শুক্রবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি ) জুমার নামাজের পর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর গ্রামের পশ্চিম মহল্লা জামে মসজিদের সামনে নির্মিতব্য ঈদগাহ নিয়ে আলোচনা সভায় বাকবিতন্ডায় জড়ায় দুই পক্ষ। এক পর্যায়ে মসজিদ কমিটি ও হাজারিবাড়ির লোকজন দেশীয অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।
আহতরা হলেন, দক্ষিণ সুরমার দাউদপুর ইউনিয়নের মৃত মখলিছুর রহমানের ছেলে শায়খ আহমদ ও তার ছেলে তানভীর। অপরজন শায়খ আহমদের ছোট ভাই আফতার।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, সিকন্দরপুর পশ্চিম মহল্লা জামে মসজিদটি সম্প্রসারণের প্রয়োজন পড়ে। মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসিরা মিলে মসজিদ সম্প্রাসারণ করেন। মসজিদের পাশেই ছিল স্থানীয় ঈদগাহ। মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য ঈদগাহ অর্ধেক জায়গা মসজিদের ভেতর ঢুকে পড়ে। পরে শায়খ আহমদের পরিবারের লোকজন ঈদগাহের জন্য তাদের ৮ শতক জায়গা ওয়াক্ফ করে দেন। মসজিদ কমিটির কাছে সেটা হস্তান্তর করেন।
সূত্রে আরও জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সিকন্দরপুরের হাজারীবাড়ির লোকজন ঈদগাহর বিপক্ষে অবস্থান নিলে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারা গ্রামবাসীর যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত ঈদগাহর বিপক্ষে গিয়ে পৃথক একটি ঈদগাহ স্থাপনের চেষ্টা করেন। জায়গা নির্ধারণ করে ‘হাজারীবাড়ি ঈদগাহ প্রস্তাবিত জায়গা’ বলে একটি সাইনবোর্ডও টানায়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা ছিল চরমে।
স্থানীয়রা জানান, সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ ধরে আজ শুক্রবার বাদ জুম’আ হাজারিবাড়ির আখলাকুল মাওলা বাহার, মিফতাহুজ্জামান, মোশতাক ও জুবেরসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে শায়েখ আহমদ, তার ছেলে তানভীর ও ভাই আফতার মারাত্মক আহত হন। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে দা’ ও অন্যান্য অস্ত্রের আঘাতে চিহ্নও দেখা যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সিলেট মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা বলেন, পাশাপাশি জায়গায় দুই ঈদগাহ নির্মাণকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ২০ জনকে আটক করেছি। মামলা হবে কি না সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
আরসি-২৪