জানুয়ারিতে সিলেটে করোনা শনাক্ত বেড়েছে ৭৭ গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন


আপডেট : ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন



জানুয়ারিতে সিলেটে করোনা শনাক্ত বেড়েছে ৭৭ গুণ
প্রতি ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২২ শতাংশ

সিলেটে জানুয়ারি মাসে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭৭ গুণ বেড়েছে। জানুয়ারিতে মোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় প্রতি ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ছিল ২২ শতাংশ। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে ১০৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। আর জানুয়ারিতে শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২০০ জনের। অর্থাৎ জানুয়ারিতে রোগী বেড়েছে ৭৭ গুণ। 

গত জানুয়ারির ৩১ দিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৬ হাজার ৮০১টি। প্রতি ঘণ্টায় ৪৯টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। আর এ পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ জনের।

জানুয়ারিতে ঘণ্টাপ্রতি শনাক্তের হার ২২ শতাংশ। আর ডিসেম্বরের ৩১ দিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ২১ হাজার ৬০৪টি। অর্থাৎ ডিসেম্বরে প্রতি ঘণ্টায় ২৯টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছেন তিনজন। ডিসেম্বরে বিভাগে ঘণ্টাপ্রতি রোগী শনাক্তের হার ছিল ১০ শতাংশ।

এদিকে, জানুয়ারিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭ জন। সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৭১। 

জানুয়ারিতে শনাক্ত রোগীর মধ্যে ৬৯ শতাংশই সিলেট জেলার বাসিন্দা। জেলায় ৫ হাজার ৬৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে শনাক্ত হয়েছে ৫৩২ জন, হবিগঞ্জে ৭৪৬ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় ১ হাজার ২৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। 

জানুয়ারিতে মৃতদের ৯৪ শতাংশই সিলেট জেলার বাসিন্দা। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৬ জন। এ ছাড়া হবিগঞ্জের একজন মারা গেছেন। তবে জানুয়ারিতে মৃত্যুহীন সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা। এই মাসে সবচেয়ে বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলার। জেলায় একমাসে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ হাজার ১২০ জন। এছাড়া সিলেট জেলায় ৩৬৯ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় ৮২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। 

২০২০ সালের এপ্রিলে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মে-জুনে শনাক্তের হার বাড়তে শুরু করে। তবে আগস্টের পর থেকে তা আবার কমতে শুরু হয়। ২০২১ সালের প্রথম দুই মাসে সংক্রমণ ছিল নিয়ন্ত্রণে। তবে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে আবারও বাড়তে থাকে সংক্রমণ।

গত জুলাইয়ে সংক্রমণ ছিল চূড়ায়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আবার সংক্রমণ কিছুটা কমতে শুরু করে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সিলেটে করোনা শনাক্তের নিম্মমুখিতা চলে গেল ডিসেম্বর পর্যন্ত। নতুন বছরের প্রথম থেকে আবারও শনাক্ত বাড়তে থাকে। তবে মধ্য জানুয়ারি থেকে তা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। 

সংক্রমণ বাড়লেও সিলেটে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে তেমন কোনো সচেতনতা নেই। মাস্ক ছাড়াই বাসা থেকে বের হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই চলছে সামাজিক-রাজনৈতিক সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল সিলেট প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যু হয় ১৫ এপ্রিল। ওই বছরের এপ্রিলে করোনা শনাক্ত হয় ১১০ জনের, মৃত্যু হয় ৩ জনের। মে মাসে শনাক্ত হয় ৯৩০ জনের, মৃত্যু হয় ১৬ জনের। জুনে শনাক্ত হয় ৩ হাজার ৫৭৪ জনের, মৃত্যু হয় ৫৮ জনের। জুলাই মাসে শনাক্ত হয় ৩ হাজার ৩০০ জনের, মৃত্যু হয় ৬৯ জনের।

আগস্ট মাসে শনাক্ত হয় ২ হাজার ৯৭৪ জন, মৃত্যু হয় ৪১ জনের। সেপ্টেম্বরে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৭৮২ জন, মৃত্যু হয় ৩১ জনের। অক্টোবরে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৯ জনের, মৃত্যু হয় ১৩ জনের। নভেম্বরে শনাক্ত হয় ৯৬৭ জনের, মৃত্যু হয় ১৩ জনের। ডিসেম্বরে শনাক্ত হয় ৮৪৭ জনের, মৃত্যু হয় ১৯ জনের। 

২০২১ সালের জানুয়ারিতে বিভাগে করোনা শনাক্ত হয় ৫০৯ জনের, মৃত্যু হয় ১২ জনের। ফেব্রæয়ারিতে শনাক্ত হয় ৩০৩ জনের, মৃত্যু হয় ৩ জনের। মার্চে শনাক্ত হয় ১ হাজার ১৮৬ জনের আর মৃত্যু হয় ১২ জনের। এপ্রিলে করোনা শনাক্ত হয় ৩ হাজার ২০১ জন আর মৃত্যু হয় ৬০ জনের।

মে মাসে বিভাগে করোনা শনাক্ত হয় ২ হাজার ৪ জনের আর মৃত্যু হয় ৫৯ জনের। জুনে ৩ হাজার ২৮৫ জনের করোনা শনাক্ত ও ৬৯ জনের মৃত্যু হয়। জুলাই শনাক্ত হয় সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৪৭১ জনের, মৃত্যু হয় ২২৪ জনের। আগস্ট মাসে করোনা শনাক্ত হয় ১২ হাজার ৫৩১ জন, মারা যান ৩৭৩ জন।

সেপ্টেম্বরে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৬১১ জন, মারা যান ৮৮ জন। অক্টোবরে শনাক্ত হয় ২৮৭ জন, মারা যান ১২ জন। নভেম্বরে শনাক্ত হয় ৯৯ জন, মারা যান ৫ জন এবং ডিসেম্বরে শনাক্ত হয় ১০৬ জন ও মারা যান ৫ জন।

এনএইচ/আরসি-০২