সিলেট মিরর ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
০৭:২০ পূর্বাহ্ন
আপডেট : ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
০৭:২০ পূর্বাহ্ন
ফেসবুক লাইভে এসে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করা আবু মহসিন খানের মরদেহের পাশে একটি 'সুইসাইড নোট', পিস্তলের লাইসেন্স ও কাফনের কাপড় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ বলেছে। পুলিশ বলেছে, সেখানে তিনি লিখেছেন 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।'
বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ফেসবুকে লাইভে এসে আত্মহত্যা করেন ৫৮ বছর বয়সী আবু মহসিন খান। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ও চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর। তার আত্মহত্যার ভিডিও খুব দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
তার আত্মহত্যার বিষয়ে রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, 'তার (মোহসীন) স্ত্রী এবং ছেলে অস্ট্রেলিয়া থাকেন। ধানমন্ডির বাসায় তিনি একা থাকতেন। উনি ২০১৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে অনেক লোকসানের মুখে পড়েন। এ সব কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা।'
সাজ্জাদুর রহমান আরও বলেন, 'মহসিন খানের সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে, ব্যবসায় ধস নেমে যাওয়ায় আমি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে অনেকের লেনদেন ছিল। কিন্তু তারা টাকা দেয়নি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।'
২০১৭ সালে মহসিন খান ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। আবু মহসিন এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। বড় ছেলে তার মাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন।
ওই ভবনের কেয়ারটেকার মো. গোলাম রাব্বী বলেন, 'নিহত মোহসিন চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর। তার মেয়ে রিয়াজের স্ত্রী বনানীতে থাকেন। মৃত্যুর খবর শুনে তারা আসছেন।'
তিনি ১৩ ভবনের ৫ তলার একটি ফ্লাটের মালিক উল্লেখ করে গোলাম রাব্বী বলেন, 'তিনি ওই বাসায় একা থাকতেন। তার বাসায় কোনো কেয়ারটেকার, কাজের বুয়া ও ড্রাইভার ছিল না। একটা প্রাইভেটকার আছে, তিনি নিজেই চালাতেন। মাঝে মধ্যে বাইরে যেতেন। তবে, বেশিরভাগ সময় বাইরে থেকে খাবার আসতো।'
শ্বশুরের মৃত্যুর খবর শুনে নায়ক রিয়াজ তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের রিয়াজ বলেছেন, এ মৃত্যুর বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। পুলিশ তদন্ত করে যা পাবে, তার সঙ্গেই তারা একমত পোষণ করবেন।'
এ ছাড়া শ্বশুরের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন রিয়াজ।
এ ছাড়া মহসিন খান তার ফেসবুক লাইভে বলেন, 'আমি মহসিন। ঢাকায় থাকি। আমার বয়স ৫৮ বছর। কোনো এক সময়ে আমি ভালো ব্যবসায়ী ছিলাম। বর্তমানে আমি ক্যানসারে আক্রান্ত। তাই আমার ব্যবসা কিংবা কোনো কিছুই নেই। ভিডিও লাইভে আসার উদ্দেশ্য হলো, মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আমার যে এক্সপেরিয়েন্স, সেটা শেয়ার করলে হয় তো সবাই জানতে পারবে, সবাই সাবধানতা অবলম্বন করবে।'
'গত ৩০ তারিখ আমার খালা মারা যান। তার একটি ছেলে আমেরিকায় থাকে, মা মারা গেল অথচ ছেলেটি আসল না। এটা আমাকে অনেক দুঃখ দিয়েছে। কষ্ট লেগেছে। আজকে আমার আরেকজন খালা মারা গিয়েছেন। তারও একটি ছেলে আমেরিকায় ছিল। অবশ্য তার তিনটা ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। তিনজনই বর্তমানে বাংলাদেশে আছেন। তারা হয়তো দাফন–কাফনের কাজ সম্পন্ন করছে। সেদিক দিয়ে বলব, এই খালা অনেকটা লাকি।'
'আমার একটা মাত্র ছেলে। সে অস্ট্রেলিয়াতে থাকে। আমার বাসায় আমি সম্পূর্ণ একা থাকি। আমার খালা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভেতরে খুব ভয় করছে। আমি যদি আমার বাসায় মরে পড়েও থাকি, আমার মনে হয় না যে, এক সপ্তাহ কেউ জানতে পারবে, আমি মারা গেছি। ছেলেমেয়ে স্ত্রী যাদের জন্য যাই কিছু আমরা করি। আমরা সব কিছু করি সন্তান এবং ফ্যামিলির জন্য।'
'আপনি যদি একশ টাকা ইনকাম করেন, আয় করেন, তার টোয়েন্টি পারসেন্ট টাকাও আপনি নিজের জন্য ব্যয় করেন না। যদি টোয়েন্টি পারসেন্ট টাকা আপনি নিজের জন্য ব্যয় করেন, তাহলে ৮০ পারসেন্ট টাকা আপনার ফ্যামিলির জন্য ব্যয় হয়।'
'গত করোনা শুরুর আগ থেকে আমি বাংলাদেশে আছি। একা থাকা যে কী কষ্ট, যারা একা থাকে, তারাই একমাত্র বলতে পারে বা বোঝেন। যাদের জন্য আমি বেশি করছি, প্রত্যেকটা লোকের কাছে আমি প্রতারিত হয়েছি। আমার এক বন্ধু ছিল, নাম কামরুজ্জামান বাবলু। যাকে আমি না খেয়ে তাকে খাইয়েছি। সে আমার ২৩ থেকে ২৫ লাখ টাকা মেরে দিয়েছে।'
রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, 'তার (মোহসীন) স্ত্রী এবং ছেলে অস্ট্রেলিয়া থাকেন। ধানমন্ডির বাসায় তিনি একা থাকতেন। উনি ২০১৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে অনেক লোকসানের মুখে পড়েন। এ সব কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা।'
ওই ভবনের কেয়ারটেকার মো. গোলাম রাব্বী বলেন, 'নিহত মোহসিন চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর। তার মেয়ে রিয়াজের স্ত্রী বনানীতে থাকেন। মৃত্যুর খবর শুনে তারা আসছেন।'
তিনি ১৩ ভবনের ৫ তলার একটি ফ্লাটের মালিক উল্লেখ করে গোলাম রাব্বী বলেন, 'তিনি ওই বাসায় একা থাকতেন। তার বাসায় কোনো কেয়ারটেকার, কাজের বুয়া ও ড্রাইভার ছিল না। একটা প্রাইভেটকার আছে, তিনি নিজেই চালাতেন। মাঝে মধ্যে বাইরে যেতেন। তবে, বেশিরভাগ সময় বাইরে থেকে খাবার আসতো।'
আরসি-০৫