করোনার নমুনা পরীক্ষাগার নেই সিলেটের তিন জেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক


ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন


আপডেট : ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন



করোনার নমুনা পরীক্ষাগার নেই সিলেটের তিন জেলায়

সিলেট বিভাগে করোনার সংক্রমণ চলছে ২২ মাসের বেশি সময় ধরে। কিন্তু এখনও সিলেট জেলা ছাড়া বিভাগের বাকি তিন জেলায় পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়নি। পরীক্ষাগার না থানায় তিন জেলা থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হয় সিলেটে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কবে থেকে তিন জেলায় করোনা পরীক্ষা শুরু হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সিলেট বিভাগে ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ওইদিন ঢাকার আইইডিসিআরের করোনা পরীক্ষার ল্যাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে সিলেট বিভাগের সব নমুনা ঢাকায় পাঠানো হত। সেখান থেকেই আসত রিপোর্ট। পরে ২৯ এপ্রিল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে স্থাপিত আরটি-পিসিআর মেশিনে শুরু হয় করোনার নমুনা পরীক্ষা। একই বছরের ১৯ মে থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবেও আরটি-পিসিআর মেশিনে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়।

এছাড়া বর্তমানে সিলেট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সীমান্তিকের আরটি-পিসিআর ল্যাবে ও উইমেন্স মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ডিএমআরের আরটি-পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। সব ল্যাবই সিলেট জেলায় প্রতিষ্ঠিত।

এ সব ল্যাবের মধ্যে সিলেট জেলার নমুনা পরীক্ষা হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাব ও সিলেট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জিন এক্সপার্ট মেশিনে। সীমান্তিকের ল্যাবে বিদেশযাত্রী, ডিএমআরের ল্যাবে বিদেশযাত্রী ও সাধারণ রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার থেকে সংগৃহিত নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব জেলাতে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হলেও অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ এলে আরটি-পিসিআর মেশিনে পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হয়।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার থেকে আগের দিন নমুনা সংগ্রহ করে পরের দিন সকালে শাবির ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখান থেকে পরীক্ষা করে রিপোর্ট পাঠানো হয়। তবে সংক্রমণ বাড়লে রিপোর্ট পেতে কয়েকদিন সময় লেগে যায়। কারণ তখন নমুনা পরীক্ষার চাপ বাড়ে। এছাড়া বিভাগের বাকি তিন জেলার বিদেশযাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করতে আসতে হয় সিলেট জেলায়।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যমতে, সিলেটে গত দুই সপ্তাহ থেকেই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও। গত এক সপ্তাহে বিভাগের ১১ হাজার ৭৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর আগের এক সপ্তাহে পরীক্ষা হয়েছিল ৯ হাজার ১৫৪টি। এর আগের এক সপ্তাহে পরীক্ষা হয় ৫ হাজার ৯৪৮টি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও ল্যাব ইনচার্জ হাম্মাদুল হক বলেন, ‘কিছুদিন আগে তিন জেলা মিলিয়ে ১০০ এর মতো নমুনা আমাদের কাছে আসত। তবে সংক্রমণ বাড়ায় বর্তমানে এর তিনগুণ নমুনা আসে। এছাড়া আমাদের ল্যাবের লোকবলও কিছু কমেছে। ফলে প্রতিদিন যে নমুনা আসে তা ওইদিনই পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। কিছু নমুনা পরের দিন পরীক্ষা করতে হয়।’

এদিকে মৌলভীবাজারে করোনা পরীক্ষা ল্যাব স্থাপনের কী অবস্থা জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ সিলেট মিররকে বলেন, ‘ল্যাব স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করে ৫-৬ মাস আগে প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি।’

২৫০ শয্যা সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘শীঘ্রই ল্যাবের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কাজ শুরু হলে ল্যাবের কার্যক্রম শুরু করতে খুব বেশিদিন লাগবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আগের দিন নমুনা সংগ্রহ করে পরের দিন আমরা শাবির ল্যাবে পাঠাই। সেখান থেকে ওইদিনই রিপোর্ট পেয়ে যাই। তবে সংক্রমণ বাড়লে রিপোর্ট পেতে দেরি হয়। সেক্ষেত্রে ল্যাব স্থাপন হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘ল্যাব স্থাপনের জন্য অন্যান্য কাজ শেষ হলেও মেশিন আসেনি। মেশিনগুলো ঢাকা থেকে আসবে। কবে আসবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ 

এনএইচ/আরসি-০২